একাত্তরের যুদ্ধাপোরাধীদের বিচার কাজ শুরু করতে সরকার কতটুকু প্রস্তুত ?

একাত্তরের যুদ্ধাপোরাধীদের বিচারে আওয়ামী লিগ সরকারের আন্তরিকতা আছে কি না সেইটা নিয়া প্রশ্ন না তুলেই মনে প্রশ্ন জাগছে, "সরকার আসলে কতটুকু প্রস্তুত বিচার কাজ শুরু করতে"।

ব্লগে রুবেলের এক পোস্টে দেখলাম গোল টেবিল বৈঠকে সবাইকে আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক আবারো নজাগরন ও সচেতনতা স্মৃস্টি করতে আহবান জানিয়েছেন। মানুষের মধ্যে সচেতনতা ঠিকই আছে, আছে বিচার চাইবার আখুতি, আছে ঐকান্তিক জাগরন। কিন্তু কথা হচ্ছে আর কতটুকু জাগরন স্মৃস্টি হলে হলে সরকারের বাস্তব কিছু করার প্রেরণা জাগবে?

রুবেল - অরন্যরা সব কিছু ফেলে ফুলে পাগলের মতো মানুষের স্বাক্ষর জোগার করবে আর সেই স্বাক্ষরগুলো গুদামঘরে পঁচে মরবে সেটাতো হতে পারে না। সাধারন মানুষের মাঝে জাগরন ঠিকই আছে , সবই ঠিক ; আছে । এখন দরকার সরকারের কাজ শুরু করবার পালা, বিচার কাজ শুরু করবার পালা। এটা না করে হাজারো সুশীল গোল টেবিল করলে কাজের কাজ কিছুই হবে না।

কিছু প্রশ্নের উত্তর জানতে ইচ্ছে করে।

১) বিচারে কাজে কারা কারা অভিযুক্ত হবে ?
হাতে গোনা - মুখ পরিচিত কিছু গোআ- নিজামী জাতীয় জামাতি নেতা না একাত্তরের স্বাধীনতা বিরোধী ও যুদ্ধাপোরাধী সকল রাজনৈতিক নেতা- কর্মী ?
মুখ চেনা কিছু পরিচিত পশুর বিচার হলে সেটা মুলত আই ওয়াশই হবে, পরিপূর্ন বিচার হবে না।
২) রাজনৈতিক অভিযুক্ত ছাড়াও যারা শান্তি কমিটিতে ছিলো বা কোলাবেরটর হিসেবে কাজ করেছিলো তারাও কি বিচারের সম্মুখিন হবে ?
৩) পাকিস্তানী সেনাবাহিনীর যুদ্ধাপোরাধীদেরও কি বিচারের সম্মুখিন করা হবে ?
৪) রাজাকার বাহিনীতে কাজ করা রাজাকার ও ইপকাফ এর সদস্য অবাঙালীরাও কি বিচারের সম্মুখিন হবে ?
এ ব্যাপরে সরকারের কোনো সুনির্দিস্ট ঘোষনা আছে কি ?

যাই হোক, ধরা যাক জাগরন স্মৃস্টি হলো। তার পর সরকারকে কিন্তু অনেক কাজ করতে হবে। আনুস্ঠানিক ভাবে অভিযোগ আনতে হবে, সেটার তদন্ত করতে হবে। তদন্ত শেষে পুলিশের অভিযোগপত্র জমা দেয়ার পরই বিচার কাজ শুরু হবে। এটা অনেক গুরুত্বপূর্ন মামলা বলে এটায় এমনভাবে তদন্ত করতে হবে ও অভিযোগপত্র দিতে হয় যাতে আদালতে গিয়ে কোনো ফাঁক ফোকরেই যুদ্ধাপোরাধীরা ছাড় না পায়। অনেকে হয়তো বলবেন, তথ্য- উপাত্ত- প্রমান অনেক আছে। মানছি আছে; কিন্তু আবেগের কাছে যা প্রমান সেটা আদালতের কাছে অনেক সময়ই প্রমান হিসেবে গন্য না। আবেগ ও আদালত দু ভাবে চলে।

এসময় আরেকটি আরেকটি প্রশ্ন জাগছে মনে।

৫) বিচারের জন্য স্পেশাল ট্রাইবুনাল করা হবে নাকি সাধারন আদালতেই বিচার কাজ শুরু হবে?

যে আদালতেই করা হোক না কেনো আদালতের বিচারে অনেক সময় লেগে যায়। আদালতে যে রায়ই হোক না কেনো সেটায় উচ্চ আদালতে আপিল করা যায়। সব কিছু মিলে অনেক সময় লেগে যায় বাংলাদেশের বর্তমান বিচার ব্যবস্থায়। এটা একটা বড় আশংকার বিষয় আমার কাছে। বঙ্গবন্ধু হত্যার বিচার প্রক্রিয়া এসময় উদাহরন হিসবে আসতে পারে ।

এ রকম একটি গুরুত্বপূর্ন কাজে সরকারের বলার মতো কোনো প্রস্তুতি চোখে পড়ছে না। গোল টেবিল বৈঠকে বা সেমিনারে সাদা কালো বাল ফেলানো ছাড়া কোনো কাজের কাজ হয় না।

আরেকটি কথা হলো,
তদন্ত ও তথ্য সংগ্রহের জন্য এমনটি কি কোনো সেল গঠন করা হয়েছে যারা এটা নিয়ে কাজ শুরু করেছে?
আইনজীবিদের নিয়ে কি কোনো বিশেষ সেল গঠন করা হয়েছে যারা আইনগত বিষয় নিয়ে কাজ করছেন ?

বর্তমান আওয়ামী সরকারের মেয়াদ থেকে ১ বছর চলে গেলো প্রায়। হাতে আছে ৪ বছর। এই ৪ বছরের শেষ ১ বছর যাবে পরবর্তী নির্বাচনের প্রস্তুতিতে। থাকলো মোটে ৩ বছর। ৩ বছর কিন্তু খুব অল্প সময় এরকম একটি বিশাল কাজের জন্য।

কথা অনেক হয়েছে, অনেক প্রতিশ্রুতিও অনেক শোনা হয়েছে। এখন কিছু করবার পালা। এবার না হলে এই জীবনে আর হবে না যুদ্ধাপোরাধীদের বিচার কাজ।



বিস্তারিত পড়ুন.............

নিজেকেই সবচাইতে বেশী ভালোবাসী

উত্তর দিয়েই প্রশ্নের শুরু।
বহুকাল আগে কোথায় যেনো একটি ইন্টারভিউ দেখেছিলাম। খুব সম্ভবত জাদুকর জুয়েল আইচের। উনাকে প্রশ্ন করা হয়েছিলো " কাকে সবচাইতে বেশী ভালোবাসেন ?" কোনোরকম ভনিতা না করেই উনার উত্তর ছিলো " নিজেকেই সবচাইতে বেশী ভালোবাসী"। কথাটা মাথায় সেই যে গেঁথে গেলো, এখনো মাজে সাজেই সেটা বের হয়ে আসতে চায়। অনেক ভেবেছি এটা নিয়ে। সবশেষে এটাই মনে হয়েছে , 'আমায় আমি সবচাইতে বেশী ভালোবাসী'। এর জন্যই হয়তো বা অন্যের কস্টের চাইতে নিজের কস্টকেই বেশী প্রাধান্য দেই, নিজের ভালোটাকে বেশী করে দেখবার চেস্টা করি। হয়তো অনেকে বলবেন এটা বড্ড বেশী স্বার্থপরের মতো আত্নকেন্দ্রীক আচরন। কিন্তু গল্পের শেষে সবাই নিজেরটাই বেশী করে ভাবে, নিজেকেই বেশী ভালোবাসে।। পৃথিবীর খুব কম মানুষই এটা হতে বের হয়ে আসতে পারে। সেই সাধুপুরুষদের দলভুক্ত হতে রাজি নই, অন্তত এ মুহুর্তে।

নিত্যকার অভ্যেস মতো ল্যাপ্পির মনিটরের পাতায় দেশের সংবাদপত্র গুলোতে চোখ বুলোনো হয়। মন ভালো করবার চাইতে মন খারাপ করা খবরই বেশী থাকে। মন খারাপের রেশ অবশ্য বেশীক্ষন থাকেও না। নিজেকে নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। একটা নতুন গাড়ী কেনা , একটা নতুন বাড়ী, একটা হোম থিয়েটার, একটা দ্বীপ ভ্রমনের পরিকল্পনায় হাড়িয়ে যায় দেশের খবর। বোকার মতো দেশে ফোন করে বাবা-মায়ের খোঁজ নেয়াও হয়।
- জিনিস পত্রের দাম যে হারে বারছে সেহারে আয়তো বারে না
- তোমার বাবাকে ডাক্তার দেখাতে হবে
- আগামী মাস থেকে বাড়ী ভাড়া বাড়বে বলেছে বাড়ীওয়ালা

নির্বিকার মুখে সবকিছু শুনে বলা হয় সামনের মাসে ১০০ ডলার বেশী পাঠাবো। দ্বায়িত্ব শেষ করে তৃপ্তির নিশ্বাঃষ ফেলি। মাকে জিগেস করা হয় না অন্যকিছুর কথা, অনেকটা ইচ্ছে করেই। করলেই বাড়তি কটা টাকা বের হয়ে যাবে, নিজের সুখ একটু কমবে।

সবশেষে নিজেকেই ভালোবাসী। নিজের ভালোবাসা রক্ষা করবার জন্য যা দরকার তাই করি। বসকে খুশী রাখা, কলিগকে খুশী রাখা, বউকে খুশী রাখা, সবাইকে খুশী রেখে নিজেকে খুশী রাখা। সব নিজের জন্যই। নিজেকেই আমি সবচাইতে ভালোবাসী।


বিস্তারিত পড়ুন.............

গ্যারাজের সেই ল্যান্ড রোভার

বেশ কবছর আগে কালীগন্জে বেড়াতে গিয়ে থানার কোয়ার্টারে ওসি সাহেবের বাসার সামনের গ্যারাজটি যেমনটি দেখেছি, ২০ বছর আগে সেমনটিই দেখেছিলাম। শান বাঁধানো পাকুর গাছের নিচে সেই গ্যারাজে সে সময় একটি ধুলোয় ঢাকা ল্যান্ড রোভার পার্ক করা ছিলো। সেবার বেড়াতে গিয়ে সেটা দেখতে পাইনি। শুনেছি সেটা নাকি নিলামে বিক্রি করা হয়েছিলো অল্প কিছু টাকায়। হয়তো সেই ল্যান্ড রোভারটি এখন চাঁদের গাড়ি হিসেবে বান্দরবনের পাহাড়ে উঠো নামা করছে। অনেক স্মৃতিমাখা সেই ল্যান্ড রোভার। একসময়ে সারা ঢাকা দাবড়িয়ে বেড়ানো ল্যান্ড রোভারটিতে চড়ে বঙ্গবন্ধু ৭০ এর নির্বাচনের প্রচারনায় ব্যবহার করেছিলেন নিয়মিত। ল্যান্ড রোভারটির মালিক ছিলেন বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের ঘনিষ্ট সহচর, আগরতলা ষড়যন্ত্র মামলা পরিচালনা কমিটির আহ্বায়ক, মুক্তিযুদ্ধের অন্যতম সংগঠক, সাবেক সংসদ সদস্য ও আওয়ামী লীগের কেন্দ্রীয় নেতা ময়েজউদ্দিন।

আজ থেকে ঠিক ২৫ বছর আগে, ১৯৮৪ সালের ২৭ সেপ্টেম্বর কালীগঞ্জে স্বৈরাচারবিরোধী গণতান্ত্রিক আন্দোলনে হরতাল কর্মসূচিতে নেতৃত্ব দেওয়ার সময় সন্ত্রাসীদের হামলায় নিহত হয়েছিলেন ময়েজউদ্দিন। প্রকাশ্য দিবালোকে কুপিয়ে উনাকে হত্যা করেছিলো যে আজম খান, সে এখন মহাজোটের শরিক জাতীয় পার্টির বড় নেতা। বিচারে আজম খানের যাবজ্জীবন কারাদন্ডও হয়েছিলো। স্বৈরিচারী এরশাদ তখন রাস্ট্রপতি। কালীগন্জ রাজা রাজেন্দ্র নারায়ণ উচ্চ বিদ্যালয়ের মাঠে লে.জে হোমো এরশাদ আজম খানকে সবার সামনে নিজের ছোট ভাই হিসেবে পরিচয় করিয়ে দিয়েছিলো। অবশ্য এর আগে আজম খানকে সাধারন ক্ষমায় মুক্তি দিয়েছিলো তার বড়ভাই এরশাদ।

আজকে ২৫ বছর পর মহাজোটের শরিক হিসেবে জাতীয় পার্টিও সরকারের অংশীদার। আজম খানও আজ জাতীয় পার্টির বড় নেতা হিসেবে মহাজোটেরও বড় নেতা।

ময়েজউদ্দিন যখন মারা যান মেয়ে মেহের আফরোজ চুমকি সময় অনেক ছোট। সে সময়কার ছোট্ট চুমকি আজ নির্বাচিত সংসদ সদস্য। ১৯৯৬-২০০১ সংসদেও উনি সংসদ সদস্য ছিলেন। সরকারী বিভিন্ন অনুস্ঠানে হয়তো আজম খানের সাথে দেখা হয়, হয়তো পাশাপাশি বসে ইফতারও খেয়েছেন। কেমন লাগে বাবার খুনির সাথে বসে ইফতার খেতে ! চুমকি আপা বলবেন কি ?

একসময় এই আমাকেই বলেছিলেন " ক্ষমতায় গেলে বাবার হত্যার বিচার করবো " ।
আজ আপনারা ক্ষমতায়। বিচার কি করা যাবে চুমকি আপা ?
আপনি কি একবারো সেই নিরীহ দরিদ্র কিন্তু অসীম সাহসী সেই ধোপার সামনা সামনি হবার সাহস রাখেন যিনি শত হুমকির মুখেও স্বাক্ষী দিয়েছিলো যখন আর কেউ সাহস রাখেনি ?

আজ শহীদ ময়েজউদ্দিনের ২৫তম মৃত্যুবার্ষিকী। বাংলাদেশের হাজারো রাজনৈতিক হত্যাকান্ডের বিচার না হবার মতো এটিও একটি।


বিস্তারিত পড়ুন.............