দূরালপনীতে - ফেসবুকে - তড়িৎ বার্তায় নিয়মিতই
খবর পেয়ে যাই কোথায় কে কেমন আছে। কেউ হয়তো নতুন চাকুরি পেলেন, কেউ বা চাকুরি হারা। কেউ অর্থের অভাবে কিছুই করতে পারছে না , আবার কেউ বা লাখ টাকা দিয়ে শাড়ি কিনছে। দেশে কি হচ্ছে , পৃথিবীতে কি হচ্ছে - সব খবরই রাখা হয়। এক সময় সব কিছু ভুলে নিজেকে
নিয়ে ব্যস্ত হয়ে পড়ি। সব কথার শেষে এটাই বলতে পারি, নিজেকেই বড্ড ভালোবাসি।
নিজ সন্তান - নিজ পরিবারের ভালোটাই সব কিছুর উপর প্রাধান্য পায়। হয়তো বড্ড স্বার্থপর
শোনাচ্ছে তবুও কস্ট হলেও বলতে হয় '
স্বার্থপর জীবন ' কাটাচ্ছি। দিনের শেষে
নিজে কিছু করতে না পারলে,
সেই ব্যর্থতার জন্য সবার করুনা পাবার বিন্দুমাত্র
ইচ্ছে আমার নেই। অভিজ্ঞতা বদলিয়ে দিচ্ছে নিজেকে প্রতিনিয়ত। এ পরিবর্তন টুকু টের পাই।
সুমনের খেরোখাতা
Today I am keeping this Blog, Tomorrow it will keep me.
শনিবার, ৩ মার্চ, ২০১২
রবিবার, ১৮ ডিসেম্বর, ২০১১
স্মৃতিচারনের সমস্যা (আবারো !)
অজ্ঞাত এক পাঠকের
মেইল পেলাম সেদিন। উনি অভিযোগ করেছেন আমার স্মৃতিচারনে নাকি শুধুই
দূঃখ খুঁজে পান। অভিযোগ অস্বীকার করছি না, ব্যপারটা
ইচ্ছেকৃত। প্রবাস জীবনের শুরু বা
বর্তমান সময়ের নানা সমস্যা বা কস্টকর ব্যপারগুলো অনেকেই এড়িয়ে যান নানা কারনে।
এহুলোকে এড়িয়ে তুলে ধরেন নানান সুখকর সব ঘটনা যার অনেকটুকুই সত্য
না। এটাকে ঠিক মিথ্যে বলাও যাবে না। যেমন, 'মা আমি লাল গাড়ি কিনেছি' অথচ ছেলে
হয়তো ট্রেনে চেপে যাতায়াত করে। মাকে খুশি করার জন্য ছেলের এতটুকু
মিথ্যে মায়ের খুশির কাছে ম্লান হয়ে যায়। তবে অনেকেই বাড়িয়ে বলতে
পছন্দ করেন। ব্যপারটা যার যার ব্যক্তিগত ব্যপার, এ ব্যপারে
আমার মাথা ব্যথা নেই।
এখন কথা হচ্ছে কেনো আমি সুখের অনুভূতি বাদ দিয়ে দূঃখের সওদা করছি। সওদা করা রূপক অর্থে ব্যবহার করা হলেও আদতে সবাই যখন সুখের কথা বলে আমি না হয় দূঃখ বা কস্টের দিকটাই তুলে ধরি। সুখ- দূঃখ মিলেইতো আমাদের দিন রাত্রি।
২০১১ শেষ হতে চল্লো। স্মৃতি ভান্ডারে কত কিছুই জমা হচ্ছে। মাঝে সাজে মনে হয় এমন কোনো প্রযুক্তি থাকতো যার মাধ্যমে সব স্মৃতিকে কোনো হার্ড ড্রাইভে নামিয়ে প্রিন্ট করা যেতো বা সোজা ব্লগে তুলে দেয়া যেতো। ব্যপরাটা মন্দ হতো না। তবে সমস্যাও কম হতো না ! এমন কিছু হয়তো নিজের অজান্তে বের হয়ে এলো যা কাউকে জানাতে চাই না ।
এখন কথা হচ্ছে কেনো আমি সুখের অনুভূতি বাদ দিয়ে দূঃখের সওদা করছি। সওদা করা রূপক অর্থে ব্যবহার করা হলেও আদতে সবাই যখন সুখের কথা বলে আমি না হয় দূঃখ বা কস্টের দিকটাই তুলে ধরি। সুখ- দূঃখ মিলেইতো আমাদের দিন রাত্রি।
২০১১ শেষ হতে চল্লো। স্মৃতি ভান্ডারে কত কিছুই জমা হচ্ছে। মাঝে সাজে মনে হয় এমন কোনো প্রযুক্তি থাকতো যার মাধ্যমে সব স্মৃতিকে কোনো হার্ড ড্রাইভে নামিয়ে প্রিন্ট করা যেতো বা সোজা ব্লগে তুলে দেয়া যেতো। ব্যপরাটা মন্দ হতো না। তবে সমস্যাও কম হতো না ! এমন কিছু হয়তো নিজের অজান্তে বের হয়ে এলো যা কাউকে জানাতে চাই না ।
রবিবার, ৪ ডিসেম্বর, ২০১১
গল্পের পেছনের গল্প
দেশে থাকতে বিটিভির একটা ডকু-বিজ্ঞাপনের দেখেছিলাম বারান্দায় অস্থির ভাবে পায়চারি করছেন আবুল খায়ের। ঘরের ভেতর থেকে হঠাৎ করে ভেসে আসলো সদ্য জন্ম নেয়া শিশুর কান্না। দরজা খুলে দাই এসে বল্লো মেয়ে হয়েছে। আবুল খায়ের সংগে থাকা নাতিকে নিয়ে মোনাজাত করছেন। দৃশ্যটার মাঝে অন্যরকম এক পরিতৃপ্তি আছে। সিনেমা বা নাটকে আমরা প্রায়শই দেখি সদ্য জন্ম নেয়া শিশুকে কোলে নিয়ে পিতার মুখ, চারপাশে হাসি মাখা একগাদা মুখ। দূর্ভাগ্য এর কোনোটাই আমার ভাগ্যে লেখা ছিলো না । দু ছেলের জন্ম নেবার সময় মোনাজাত করবার মতো দাদা পায়নি আমার ছেলেরা, পাশে পায়নি একদল স্বজনের হাসিমাখা মুখ। পাশে ছিলাম শুধুই এই মানুষটি, কান্নারত আমার বউ আর মাতৃরুপী ধাত্রী।
শনিবার, ৫ নভেম্বর, ২০১১
ব্লাডি ফেয়ার ডিংকুম ১৭
বাসা পাওয়া বেশ ঝক্কি ঝামেলার ব্যপার। আমার জন্য সেটা ছিলো জীবন মরন সমস্যা। একে ওকে বলি বাসার কথা, সবাই হাঁ বলে কিন্তু কারো কাছ থেকে সারা শব্দটি পাওয়া যচ্ছিলো না। এমনি এক সময় এক বন্ধু আশির্বাদ হয়ে আসলো। ওর কাছ থেকে শুনলাম দুজন বাংলাদেশী নাকি বাসার জন্য বোর্ডার খুঁজছে। উনাদের সাথে কথা বলে ঠিক করলাম যেই শর্তই হোক না কেনো ঐ বাসায় উঠবো।
সে দিন বাসায় কেউ ছিলো না। সবাই যথারীতি আমাকে না জানিয়েই সিডনী গিয়েছিলো। একলা বাসায় সব কিছু গুছিয়ে ট্যাক্সি ডেকে যখন সেই নতুন বাসার দিকে রওয়ানা দিলাম তখন এক অপার্থিব শান্তি লেগেছিলো। মনে হচ্ছিলো পিঠের উপর থেকে বিশাল এক বোঝা নেমে গেলো। ৪ বেড রুমের নতুন বাসায় লোক বলতে আমি আর আরেক বাংলাদেশী সিনিয়র। নতুন হাউসমেটকে নিয়ে ছোট খাটো গল্প লিখে যাবে, গল্প না বলে রম্য রচনা বল্লেই মনে হয় বেশী মানানসই হবে।
সে দিন বাসায় কেউ ছিলো না। সবাই যথারীতি আমাকে না জানিয়েই সিডনী গিয়েছিলো। একলা বাসায় সব কিছু গুছিয়ে ট্যাক্সি ডেকে যখন সেই নতুন বাসার দিকে রওয়ানা দিলাম তখন এক অপার্থিব শান্তি লেগেছিলো। মনে হচ্ছিলো পিঠের উপর থেকে বিশাল এক বোঝা নেমে গেলো। ৪ বেড রুমের নতুন বাসায় লোক বলতে আমি আর আরেক বাংলাদেশী সিনিয়র। নতুন হাউসমেটকে নিয়ে ছোট খাটো গল্প লিখে যাবে, গল্প না বলে রম্য রচনা বল্লেই মনে হয় বেশী মানানসই হবে।
বুধবার, ২ নভেম্বর, ২০১১
সুখের লাগিয়া - কবি জ্ঞানদাসের পদাবলী
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
সুখের লাগিয়া এ ঘর বাঁধিনু
অনলে পুড়িয়া গেল |
অমিয়া-সাগরে সিনান করিতে
সকলি গরল ভেল ||
সখি কি মোর করমে লেখি |
শীতল বলিয়া ও চাঁদ সেবিনু
ভানুর কিরণ দেখি ||
উচল বলিয়া অচলে চড়িতে
পড়িনু অগাধ জলে |
লছিমি চাহিতে দারিদ্র্য বেঢ়ল
মাণিক্য হারানু হেলে ||
নগর বসালাম সায়র বাঁধিলাম
মাণিক পাবার আশে |
সাগর শুকাল মাণিক লুকাল
অভাগার করম-দোষে ||
পিয়াস লাগিয়া জলদ সেবিনু
বজর পড়িয়া গেল |
জ্ঞানদাস কহে কানুর পিরীতি
মরণ অধিক শেল ||
কি অসাধারন !