যারা অস্ট্রেলিয়াতে মাইগ্রেশন নিয়ে আসছেন তাদের জন্য কিছু টিপস

জীবনে প্রথমবারের মতো প্রবাসে এসে অনেকেই নানা সমস্যায় পরেন, এ পোস্ট তাদের জন্যই। অন্যান্য প্রবাসীরাও এতে তাদের কথা যুক্ত করতে পারেন, তাদের স্বাগত জানাই।

এ পোস্ট নিজস্ব অভিগ্যতা ও পর্যবেক্ষনের সাথে সাথে কিছু বাস্তবতা তুলে ধরছি। আশা করি যারা নতুন আসছেন তাদের কাজে লাগবে। পোস্টটি যারা মাইগ্রেশন নিয়ে আসছেন শুধুই তাদের জন্য, পড়াশোনা বা বেড়াতে যারা আসছেন তাদের জন্য নয়।

এ পোস্টটি অস্ট্রেলিয়াতে যারা স্থায়ীভাবে থাকতে আসছেন তাদের জন্যই লিখছি।

১.
যারা জীবনে প্রথমবারের মতো আসছেন তারা প্রথমেই যে সমস্যার সম্মুখিন হোন তা হচ্ছে ” কালচারাল শক “। এটা সবারই হয়ে থাকে তবে প্রথমবারের মতো যারা দেশের বাহিরে দীর্ঘসময়ের জন্য থাকতে এসেছেন তাদের বেশী হয়। দেশে যা দেখে এসেছেন তার অনেককিছুই এখানে অনুপস্থিত দেখতে পেয়ে তারা শক্ড হয়ে যান, যদিও এ শক সাময়িক এবং কমাস বাদেই কেটে যায়। আস্তে আস্তে তারা স্রোতে গা ভাসিয়ে দিতে পারেন। একেক দেশের একেক রকম সংস্কৃতি, আশার কথা এটায় অভ্যস্ত হতে মানুষ খুব সহজেই পারে।

২.
যারা স্থায়ী অভিবাসী হিসেবে আসেন তারা দেশে কম-বেশী একটি ভালো ও নিশ্চিৎ অবস্থা থেকে এখানে আসেন। এখানে এসে তাদের মুলত শুন্য থেকেই শুরু করতে হয়। এই স্ক্র্যাচ স্ট্রার্টিং অনেকের কাছেই অভিশাপের মতো মনে হয়। মনে রাখতে হয়, যারা মাইগ্রেন্ট তাদের সবারই এটা হয়েছে, নিজেকে একা ভাবার কোনো কারন নেই। অস্ট্রেলিয়ায় চাকুরিদাতাদের একটি প্রবনতা হলো অস্ট্রেলিয়াতে কাজের অভিগ্যতা ও অস্ট্রেলিয়ান ডিগ্রী চাওয়া, যা দেশ থেকে আসা কারো থাকে না; এ কারনে নিজের ফিল্ডে চাকুরি খুঁজতে গিয়ে তারা প্রচন্ড সমস্যা ভোগ করেন। তবে চেস্টা চালাতে থাকলে এটা উৎরানো সম্ভব ও অনেকেই এটা করতে পেরেছেন।

দরকার হলো না ছেড়ে চেস্টা চালিয়ে যাওয়া’; এটাই মুল সুত্র। যোগ্যতা থাকলে নিজের ডোমেইনে চাকুরি পাওয়া যায়।

৩.
প্রথম অবস্থায় এসে নিজের ফিল্ডে চাকুরি না পেয়ে অনেককেই মনোকস্টে ভুগেন। হয়তো দেশে সফট ওয়্যার ইন্জিনিয়ার ছিলেন বা সরকারী আমলা ছিলেন অথবা বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক ছিলেন। কিন্তু এখানে এসে প্রথম অবস্থায় চাকুরি না পেয়ে তাদের হয়তো রেস্টুরেন্টের রান্না ঘরে কাজ করতে হয়, হয়তো ট্যাক্সি চালাতে হয়, হয়তোবা সুপার মার্কেটে কাজ করতে হয়। দেশে এ ধরনের কাজকে ছোট করে দেখতে দেখতে মন মানসীকতা এরকমই হয়ে যায় যে তারা এখানে এসে এ ধরনের কাজ করতে গিয়ে হিনমন্যতায় ভুগেন। কিন্তু অস্ট্রেলিয়াতে সব ধরনের কাজকেই সম্মান করা হয়, মানুষ হিসেবে সম্মান করা হয়, এখানে অন্য কিছু বিচার্য না। এজন্যও গার্বেজ কালেক্টরও এম.পি হতে পারেন, এজন্যই মন্ত্রি বা বিশাল আমলার সন্তান প্লাম্বারের কাজ করে নিজের কাজ লুকায় না, গর্ব করে বলে।

দেশ থেকে যারা আসছেন তারা তাদের মধ্যযুগীয় ইগোকে দেশের মাটিতে রেখে আসবেন।

আরেকটি জিনিস, বর্তমান অর্থনৈতিক মন্দায় চাকুরির বাজারের পরিস্থিতি ভয়াবহ। গত বছরের তুলনায় চাকুরির এড কমেছে ৫৫%। ছাঁটাই তো আছেই।

৪.
বাস্তবতা হচ্ছে আমাদের দেশ থেকে যারা মাইগ্রেশন নিয়ে আসছেন তাদের বেশীরভাগেরই ইংরেজী বলতে ও বুঝতে খুব সমস্যা হয়। আই.ই.এল.টি.এস এ ভালো স্কোর পাওয়া আর তার বাস্তব প্রয়োগ ভিন্ন জিনিস। ইংরেজীর সমস্যার কারনে তারা ভালো চাকুরি পান না। যারা এ সমস্যা কাটাতে পারেন তারা ছাড়া অন্যদের অনেক সমস্যার মুখোমুখি হতে হয়। এটার বিকল্প নেই।

৫.
আরেকটি সমস্যা যা দেশ হতে আসা স্থায়ী অভিবাসীরা মুখোমুখি হোন তা হচ্ছে ” সিস্টেম” । একেক দেশ একেকভাবে চলে, একেক ভাবে ভাবে। বাংলাদেশে যে সিস্টেমে তারা চলে এসেছেন সেটা এ দেশে আশা করা বোকামী। নিজেকে পরিবর্তন করতে হবে, এখানকার সিস্টেমের সাথে খাপ খাওয়াতে হবে। চাপা মারা, সময়ের মুল্য না দেয়া, ধান্দাবাজী, দূর্নীতি করার প্রবনতা, ইত্যাদি ইত্যাদি এখানে করলে চলেবে না। এখানের মতো চলবে হবে। তবে নিজস্ব স্বকীয়তা বিসর্জন দিতে বলছি না।

৬.
যারা এখানে আসছেন বা নতুন এসেছেন তারা অনেক সময়ই রঙিন চশমা পরে রঙিন স্বপ্ন দেখতে থাকেন। তাদের বাস্তববাদী হতে হবে। দেশে থেকে এখানকার অনেক রঙিন গল্প, অনেক মিথ্যে গল্প তারা শুনতে শুনতে তারা যে স্বপ্নের জগৎ গড়ে তুলেন তা এখানে মিথ্যে হয়ে যায় আসার পর। তবে স্বপ্নকে স্বার্থক করা সম্ভব, অনেক অনেক মানুষ করেছেন, আপনিও পারবেন।

বাস্তববাদী হতে হবে, কঠিন পরিশ্রম করতে হবে সফল হতে।

অন্য কারো উপর ভরসা করে বা আশা করে এখানে আসা চলবে না।

৭.
ড্রাইভিং শিখে আসবেন অবশ্যই। এতে যেমন নিজের কাজে লাগবে তেমনি ট্যাক্সি চালাতে পারবেন। ট্যাক্সি চালানোর কথা বলাতে ভঁরু কুচকালে চলবে না। এতে ইনলাম ভালো, স্বাধীনতা আছে তেমনি আমাদের দেশের অনেকেই এ কাজ করছে।

৮.
রান্না শিখে আসবেন। অন্তত বেসিক টুকু। এখানে আপনি বুয়া পাবেন না যে আপনার জন্য ৩ বেলা রান্না করে দেবে। নিজের কাজ নিজেকেই করতে হবে, নিজের রান্না নিজেকেই করতে হবে।

৯.
বেশ ক মাস চলার মতো টাকা নিয়ে আসবেন। এটা মনে যেমন সাহস দেবে তেমনি কোনো রকম কাজ না পেলে জীবন বাঁচাবে।

১০.
মানুষ তার স্বপ্নের সীমা ছুতে পারে, আপনিও পারবেন। শুধু দরকার ” লাইনে থাকা, লাইনচ্যুত হওয়া যাবে না।” ধীরে ধীরে সব কিছুই আপনি নিজেই শিখে নেবেন, বুঝে নিবেন। আশাহত হওয়া যাবে না। সফল আপনি হবেনই।
——
শুভকামনা।

আপাতত এই টিপস গুলোই দিচ্ছি।
অন্যরাও যোগ করে পারেন নিজেদের টিপস গুলো।


বিস্তারিত পড়ুন.............

দূখিত হাসান, চাকুরিটা এন্ড্রুই পাচ্ছে

বৈষম্য নিয়ে অস্ট্রেলিয়ায় এ যাবৎকালের অন্যতম বড় পর্যবেক্ষনে দেখা গিয়েছে হাসান, ঝিউ এবং লুইজের চেয়ে জেনিফার, এন্ড্রু এবং সারাহ নামের লোকেরা চাকুরিতে বেশী সুবিধা পাচ্ছে।

সম্প্রতি অস্ট্রেলিয়ান ন্যাশনাল ইউনিভার্সিটির অর্থনীতিবিদরা তাদের ২ বছরের পর্যবেক্ষনের ফলাফল প্রকাশ করেছেন যেখানে তারা ৫০০০ এরও বেশী আ্যংলো, মধ্যপ্র্যচীয়, আদিবাসী, চায়নিজ এবং ইটালিয়ান বনাম ব্যবহার করা মিথ্যে জীবন তথ্য পাঠিয়েছিলেন। সিডনী, মেলবোর্ন এবং ব্রিসবেনের বিভিন্ন অনলাইন চাকুরির বিগ্যপ্তির প্রেক্ষিতে তারা এ সিভিগুলো পাঠিয়েছিলেন।

এই প্রতিবেদন দেখে গিয়েছে যে চায়নিজ ও মধ্যপ্রাচ্যীয় চাকুরি সন্ধান প্রার্থীরা সবচাইতে বেশী বৈষম্যের শিকার হচ্ছেন। অধ্যাপক এলিসন বুথ, অধ্যাপক এন্ড্রু লেই এবং গবেষক এলেনা ভারগানোভা লিখিত প্রতিবেদন "ক্ষুদ্রতর গোস্ঠীর মধ্যে জাতিগত ও সাম্প্রদায়িক বৈষম্য আছে কি ? " অনুসারে একজন চায়নিজ চাকুরীপ্রার্থীকে শতকরা ৬৮ ভাগ বেশী আবেদন করতে হয় একজন আ্যংলো -স্যাক্সনের চেয়ে শুধুমাত্র সাক্ষাতকার পাবার জন্য।
মধ্যপ্রাচ্যীয়দের ক্ষেত্রে তা শতকরা ৬৪ ভাগ বেশী, আদিবাসীদের তা শতকরা ৩৫ এবং ইটালিয়ান চাকুরিপ্রার্থীদের ক্ষেত্রে শতকরা ১২ ভাগ বেশী আবেদন করতে হয়।

গতমাসে ছাপা ক্যানেবরা টাইমস এর খবরটি অপটু হাতে অনুবাদ করে দিলাম। বিস্তারিত পরে জানাবার চেস্টা করবো।



বিস্তারিত পড়ুন.............

হাবিজাবি ৫

আজ ভরা পূর্নিমা। মধ্য আকাশে চকচকে সিরামিকের থালার মতো একটি বিশাল চাঁদ উঠেছে। সন্ধ্যে বেলা ওটা ছিল দিগন্ত রেখা বরাবর। তখন ওটা আকারে বেশ বড়ও ছিল।

গত কালও ঠিক এমন বড় আকারের চাঁদ ছিল। সপ্তাহের বাজার শেষে বাসায় ফীরে আসার সময় ভেবেছিলাম আজ বুঝি ভরা পূর্নিমা। পূর্নিমায় মানুষ বলে কবি হয়ে উঠে। আমার অবশ্য তা হচ্ছে না। কবিতা আমার উপরে পরেছে। বাহিরে দাঁড়িয়ে চাঁদ দেখছিলাম। হঠাৎ মনে হলো, চাঁদকে ধরে রাখি ক্যামেরায়। বেশ কয়েকটি স্ন্যাপও নিলাম। হাত অবশ্য কয়েকবার কেঁপেও গিয়েছিলো। অপুটু হাতে পয়েন্ট এন্ড শুটের সস্তা ক্যামেরায় তোলা ছবি আর কতটুকুই ভালো হতে পারে ! তারপরেও চাঁদ বলে কথা।  আমরা যারা এইমুহুর্তে এই চাঁদের দিকে তাকিয়ে আছি, তারা কি বিনি সুতার মালা গাঁথা ?


অনেক ঠান্ডা পরেছে। এ মুহুর্তে ৩ ডিগ্রী সেলসিয়াস। রাতে আরো কমবে। -৩ ডিগ্রীতে নামবে বলে আবহাওয়ার আধিকারীকরা বলছেন। ভাগ্যিস ঘরে হিটার চলছে। অস্ট্রেলিয়ার মতো উন্নত ধনী দেশে যখন লাখো মানুষ ঘর হারা, মাথার উপরে ছাদ নেই - এ শীতে তাদের অবস্থা কল্পনা করে যেমন খারাপ লাগছে তেমনি নিজেকে ভাগ্যবানও মনে হচ্ছে। অন্তত এ শীতে কস্ট করতে হচ্ছে না।

বাসায় কোনো ওভেন ছিলো না। কোনো কিছু বেক বা রোস্ট করে খেতে হলে সেই ইচ্ছেকে শিকেয় তুলে রাখতে হতো। সস্তা একটা পোর্টেবল ওভেন কিনে ফেল্লাম। প্রথম দিনেই বানানো হয়েছিলো প্লেইন কেক, গতকাল ও আজ পিৎজা। পিৎজা বানানো যে এতো সহজ জানা ছিলো না।  লুঙি পরে এক বাঙাল ইটালিয়ান পিৎজা বানাচ্ছে এ দৃশ্য যদি কেউ দেখে তবে নিশ্চয়ই তার পক্ষে হাসী চেপে রাখা কস্ট হবে।

দিনকাল আগের মতোই চলছে। ৫ দিন - ৫ রাতের কামলাময় জীবন। পরিশ্রম করি কিন্তু কস্ট মনে হয় না। একটি সুন্দর ভবিষ্যতের জন্যই তো এত সব কিছু। ব্যস্ততার জন্য অনেকের সাথেই দেখা করা হয় না, ইচ্ছে থাকা সত্বেও অনেকের বাসায় যাওয়া হয় না, যোগাযোগ করা সম্ভব হয় না। অনেকেই মনে হয় এজন্য আমার উপর খাপ্পা। কিছুই করার নেই, দূঃখিত বলা ছাড়া।

চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে, গানটি শুনতে ইচ্ছে করছে ?


চাঁদের হাসি বাঁধ ভেঙেছে.....


বিস্তারিত পড়ুন.............

রবি ঠাকুরের কোলে

অনেক বছর আগের কথা।
দু যুগ হলেও হতে পারে।
রবি ঠাকুরের কোলে উঠেছিলাম সেবার।
লম্বা দাঁড়ি ওলা লম্বাটে আকৃতির রবিন্দ্রনাথ ঠাকুর।
অনেক কিছু ভুলে গেলেও সেই লম্বা দাঁড়ির কথা ভুলতে পারিনা এখনো।
আজ কবি নির্মেলেন্দু গুনের ছবি দেখে পুরোনো স্মৃতি মনে পরে গেলো হঠাৎই।
মানুষটি ছিলেন কবি নির্মলেন্দু গুন। প্রতিবেশী নির্মলেন্দু গুন তখন উনার প্রাক্তন ডাক্তার স্ত্রীর সাথে ময়মনসিঙে থাকতেন।
অনেককাল একটা ভুলের মাঝে ছিলাম। ভাবতাম রবি ঠাকুর !
এখনো মাঝে মাঝে মনে হয় রবি ঠাকুরের কোলে উঠেছিলাম।
বিলম্বিত জন্মদিন আপনাকে , প্রিয় কবি নির্মলেন্দু গুন।
আপনি ভালো আছেন তো ?


বিস্তারিত পড়ুন.............

সমালোচকের খড়গ তলায় প্রিয় অস্ট্রেলিয়া.কম এর ৫ম জন্মদিন

"২০ জুন, শনিবার " , ‌ক্যালেন্ডারে অনেকদিন ধরেই লাল রঙে এমন ভাবে চিহ্ন দেয়া ছিলো যাতে প্রথমেই নজর কারে। দিনটি ছিলো প্রিয় অস্ট্রেলিয়া.কম এর ৫ম জন্মবার্ষিকী। মজার ব্যাপার হলো প্রিয় অস্ট্রেলিয়া. কমের ৫ম জন্মদিনের সাথে সাথে অস্ট্রেলিয়ায় আমারও ৫ বছর পূর্তি হয়েছে। ব্যাপারটা একরকম কাকতালীয়ই বলা যায়। দেশ হিসেবে অস্ট্রেলিয়াকে প্রিয় বলার মতো অবস্থায় এখনো আসতে না পারলেও সাইট হিসেবে প্রিয় অস্ট্রেলিয়া.কমকে প্রিয় বলতেই পারি, সম্তাহের অন্ত‌ত একদিন হলেও সেখানে ঢুঁ মারা চাই।

মজা করে প্রায়শই 'নটার গাড়ি কটায় ছাড়বে' বলা হলেও অনুস্ঠান শুরু হয়েছিলো কাঁটায় কাঁটায় ১০ টার সময়েই যদিও সে সময় অতিথীর চাইতে আয়োজকদের সংখ্যাই বেশী ছিলো। সময়ের সাথে সাথে অতিথীদের আনাগোনা বাড়তে বাড়তে একসময়ে সেটা মেলায় রুপ নেয়। আমি নিজেও অবশ্য পৌঁছেছিলাম ১০টা বাজার ঠিক ২ মিনিট আগে। CSIRO Discovery অপটাস লেকচার থিয়েটারে সেবারই ছিলো আমার প্রথম পদধূলি। মুল অস্ঠানের বাহিরে বেশ কিছু স্টল ছিলো । অনুস্ঠানের মূল পৃস্ঠপষকদের মাঝে যাদের নাম সবার প্রথমে আনতে হয় সেই MCCA এর স্টলটি ঢুকতেই হাতের বামে, একপাশে আইলা সাইক্লোনের জন্য ডোনেশন কালেকশনের জন্য একটি টেবিল, অন্যপাশে একটি আর্কিটেকচারাল ফার্মের ও ক্রিকেট নিয়ে একটি ওয়েবসাইটের দুটো টেবিল।

খাবারের জন্য একটি স্টল ছিলো যথারীতি। "গোট তেহারী" , "চিকেন বিরিয়ানী " দুটি হাস্যকর হাইব্রিড নামের ৫ ডলার/প্যাকেট দামের আইটেমের নাম করতেই হয়। কেনো বাপু "খাসীর তেহারী, মোরোগ পোলাও " এ নামে ডাকলে কি জাত চলে যেতো ? দাম কমাতে গিয়ে খাবারের মান এতো খারাপ করতে হয় সেটা জানা ছিলো না। অন্যসবব আইটেম চলনসই তবে স্প্রিং রোলের মাঝে কি ছিলো সেটা খুঁজে পেতে বেশ বেগ পেতে হয়েছিলো। দূপুরের খাবারের বিরতিতে ক্যাফের সামনের অংশটুকু পেট পূজোরত অতিথীদের কলকাকলি দেখে ভালোই লাগছিলো। বাঙালী দেশে হয়তো কিউয়ে দাঁড়াতে অভ্যস্থ নয় কিন্তু এখানে ঠিকই লাইন ধরে খাবার কিনেছিলো, খেতে খেতে এখানে সেখানেও খাবার ছড়ায়নি।

খাবারের স্টলের সামনেই ছিলো মুক্তিযু্দ্ধ নিয়ে বইয়ের স্টল। তবে খুব কম মানুষকেই বই নাড়া চাড়া করতে দেখেছি এবং তাদের সবাই ছিলেন মধ্য বয়স্ক। ক্যানবেরার নতুন প্রজন্মের যারা আছে তাদের যেখানে বাঙলা বলতেই সমস্যা হয় সেখানে বাঙলা বই পড়ার কথা চিন্তাই করা যায় না। জিনিসটা হতাশাকর ছিলো আমার কাছে। মুক্তিযুদ্ধকে মানুষের কাছে পৌঁছে দেবার এ চেস্টাকে সাধুবাদ জানাতেই হবে আয়োজকদের।

জাকিয়া হোসাইনের দ্বিতীয় একক চিত্র প্রদর্শনী ছিলো খাবারের স্টল ও বইয়ের স্টলের পাশেই। অপেশাদার আনাড়ি একজন শিল্পীর সাথে পরিচিত হতে পেরে ভালো লেগেছে, তবে উনি যখন ছবিগুলো বোঝাতে চেয়েছেন তখন কিছুই বুঝতে পারিনি যদিও এব্সট্রাক্ট আর্ট বলতে যে উত্তর আধুনিক চিত্রকলা বাজারে প্রচলিত সেগুলোর কোনোটাই সেখানে ছিলো না।

এবারে আসা যাক মুল অনুস্ঠানে।

সকালে বেলায় পাখিদের জন্য লাল টি-শার্টটা দেখে লোভ সামলাতে পারিনি, যদিও লাল রঙ দেখে রাস্তার লাল বাতির কথা মনে পরে যাচ্ছিলো ও নিজের অজান্তেই গাড়ির ব্রেকের মতো নিজেকে থামাবার মতো পা সামনের দিকে এগিয়ে যাচ্ছিলো। বাচ্চাদের হাতে বেলুন দেবার সাথে সাথে বড় পর্দায় "মনপুরা " ও দিলারা জামান ও শর্মিলী আহমেদের আলাপচারিতা " ও বন্ধু আমার " খুব সম্ভবত অনেকেই মিস করেছেন দেরীতে আসবার কারনে। ক্যানবেরার বাঙলা স্কুলের ছোট ছোট বাচ্চাদের গান - কবিতার সাথে সাথে নাচ - দলীয় উপস্থাপনা দারুন উপভোগ করেছি। দেশ - দেশের সংস্কৃতি হতে হাজার মাইল দূরে থেকেও ছোট ছোট বাচ্চারা কি অসাধারন কাজ করে চলছে সেটা নিজের চোখে না দেখলে বিশ্বাস হতে চায় না। ক্যানবেরা বাঙলা স্কুল ও এর শিক্ষার্থীদের আমি ১০০ মধ্যে ১১০ দিতে চাই। ফ্যাশন শোটিকে দেখে মজা লেগেছে, পশ্চিমা আচারে প্রাচ্যের মসলা। তবে এ প্রসংগে একটি কথাই বলতে ইচ্ছে হচ্ছে, " বাঙলা উচ্চারন " । বাচ্চাদের মুখে ইংরেজী প্রভাবান্বিত বাঙলা কানে বড্ড বাজে লাগে। আশা করি বাবা-মারা এটা নিয়ে সচেতন হবেন। শুদ্ধ উচ্চারনে বাঙলা - শুদ্ধ উচ্চারনে ইংরেজীর বিকল্প নেই।

অনুস্ঠানের ফাঁকে ফাঁকে যাত্রার ঢঙে বাংলাদেশের প্রকৃত ইতিহাস ও মুক্তিযু্দ্ধকে বর্তমান প্রজন্মের সাথে সাথে ভবিষ্যত প্রজন্মের মাঝে ছড়িয়ে দেবার অসাধারন প্রচেস্টাকে আমি প্রচন্ডভাবে উপভোগ করেছি, এটিকেও আমি ১০০ এর মাঝে ১১৫ দিতে চাই। অনুস্ঠানের শুরু থেকে শেষ পর্যন্ত এই যাত্রা পালার মাধ্যমে পলাশী থেকে ৭১ পর্যন্ত সুন্দরভাবে তুলে ধার সম্ভব হয়েছে যদিও মাঝে মাঝেই শব্দ প্রক্ষেপনের জন্য শুনতে সমস্যা হয়েছে। এটি এ অনুস্ঠানের একটি ব্যতিক্রমি কিন্তু অনুসরনীয় দিক।‌

অনুস্ঠানের এক পর্যায়ে ছিলো সম্মাননা প্রদান। ২০০৯ এর প্রিয় বাঙালীর সম্মাননা পেয়েছেন এডেলেইডের ড. রফিকুল ইসলাম , প্রিয় লেখক ২০০৯ পেয়েছেন সিডনীর জন মার্টিন, প্রিয় লেখক ২০০৬ পেয়েছেন ক্যনবেরার আফজাল হোসেন, প্রবাসী বাঙালী ও বাংলাদেশকে সবার মাঝে তুলে ধরবার জন্য আজীবন সম্মাননা ২০০৯ পেয়েছেন শ্রদ্ধেয় জনাব হাসমত আলী, প্রিয় ব্যক্তিত্ব ২০০৯ জনাব সিরাজুল সালেকীন, প্রিয় বন্ধু ২০০৯ পেয়েছেন সর্বপ্রিয় মিন্টু ভাই। প্রিয় লেখক ২০০৭ ও ২০০৮ কে পেলেন সেটা অবশ্য জানা হলো না।

যারা গান গেয়েছেন তাদের মাঝে মিন্টু ভাইয়ের গান ভালো লেগেছে সেরম। ইচ্ছে হচ্ছিলো উনাকে আমি অতীতকালের রাজা জমিদারদের মতো একটা মেডেল দেই। অভিজিতের গান ভালো লাগেনি, এটাকে নিয়ে বলার মতো কিছু পাচ্ছি না যদিও উনি অনেকগুলো জনপ্রিয় গান গেয়ে দর্শক মাতিয়েছেন।

এসব কিছুর মাঝেই এক পর্যায়ে ছিলো জ্ন্মদিনের কেক কাটা। বুড়োদের বাদ দিয়ে ছোট ছোট বাচ্চাদের দ্বারা কেক কাটানোটা ভালো লেগেছে। কেক ছিলো টকটককে লাল রঙের। যদিও এটা দেখে লাল ক্যাপসিকামের কথা মনে পড়ছিলো, তবে কেকের ডিজাইনটা ভালো লেগেছে।

অনুস্ঠানের মাঝে মাঝে বেশ কিছু পারফরমেন্স আমি মিস করেছি বাহিরে আড্ডা দেয়ায়। যেমন বাঙালী বিজনেস ডিরেক্টরী, প্রিয় অস্ট্রেলিয়ার ফটো লাইব্রেরী। এগুলোর সম্পর্কে কিছু বলতে পারছি না বলে দুঃখিত। অনুস্ঠানের শেষের দিকটায় ব্যক্তিগত ব্যস্ততার তাড়নায় চলে আসায় শেষের আকর্ষন গুলো মিস করেছি।

পুরো অনুস্ঠানটি অনলাইনে স্টিমিং করা হয়েছিলো প্রিয় অস্ট্রেলিয়া.কম সাইটে যাতে যারা আসতে পারেনি তারাও আন্তর্জালিক অংশগ্রহন করতে পারেন। গ্যালারীর মাঝে কোনোরকম ধন্যবাদের আশা না করে নিভৃতে কাজ করে যাওয়া মানুষটিকে ধন্যবাদ না জানালে সব কিছুই বৃথা হবে।

অনুস্ঠানে পরিচিত অনেককেই দেখতে পাইনি। হয়তো ব্যস্ততার জন্য আসতে পারেননি অনেকেই, হয়তো প্রিয় অস্ট্রলিয়ার জন্মদিনে কেনো যাবো এরকম হিংসার জ্বালায় ভুগে আসেনননি , হয়তো অনুস্ঠানে মুক্তিযুদ্ধকে প্রমোট করা হবে এটা ভেবে ভয়ে আসেননি। নিজেকে বড় করলে- উদার করলে কেউ ছোট হয়ে যায় না, সেটা অনেকেই জানেন না।

জন্মদিনের পুরো অনুস্ঠানটি পেছনে যারা অক্লান্ত পরিশ্রম করেছেন তাদের সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাতেই হবে। সুনির্দিস্ট ভাবে কারো নাম উল্লেখ না করে আমি সবাইকেই ধন্যবাদ জানাই আমাদের সুন্দর একটি দিন উপহার দেবার জন্য ও অনুস্ঠানকে স্বার্থক করবার জন্য। অনুস্ঠানের উপস্থাপক যদি উনার স্বভাব সুলভ চটুলতাকে একটু পাশে সরিয়ে একটু গম্ভীর হতে পারতেন তবে মন্দ হতো না।

সবশেষে থ্রি চিয়ার্স ..............সব কামলাকে ।


বিস্তারিত পড়ুন.............

bdnews24.com | English Version

বিবিসি বাংলা