মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১০

আহ কেভিন

সকালে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। রাস্তায় বেজায় ভীড়। পিঁপড়ের সারির মতো গাড়িগুলো ধীরে ধীরে এগুচ্ছে। হঠাৎ একটি কারের  সামনের সিটে বসা মানুষটিকে দেখে আমিতো অবাক । সিটে বসা  কেভিন রাড , অস্ট্রেলিয়ার সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রি। এখানকার সরকারী গাড়িগুলোর রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দেখলেই বোঝা যায় । একা বসে আছেন। আনমনে কি যেনো করছেন। সামনে হুইসেল বাজানো পুলিশের গাড়ি নেই, পেছনে গাড়ির বহর নেই। মন্ত্রি আসছেন বলে সিগনালে সব গাড়ি বন্ধ করে মন্ত্রিকে এগুতেও দিচ্ছে না ট্রাফিক পুলিশ। আর দশটা সাধারন মানুষের মতোই চলছেন কেভিন রাড।

মাঝে মাঝেই বোকার মতোই বাংলাদেশের সাথে অস্ট্রেলিয়ার তুলনা করি। দুটো দেশের রাজধানীকে হাতের তালুর মতো চেনা বলে তুলনা করা অনেক সময় সহজ হয়। পেশাগত ও বাসস্থানের  ভৌগলিক অবস্থানের কারনে বেশ কিছু রাজনীতিবিদকে চেনাও আছে দু দেশেই। হয়তো ভেতরে দুদেশের সবাই একরকম হলেও অন্তত বাহ্যিক দিক থেকে ফারাকটা বেশ চোখে পরে, সেটা চেহারা বা চামরার রঙে নয়। সিনেটে ন্যাশনাল পার্টি লিডার বারনাবি হয়তো সংসদে অনেক উল্টা পাল্টা কথা বলেন কিন্তু সামনা সামনি কথা বলার সময় লোকটিকে অন্যরকম মনে হয় অথবা জুলিয়া বিশপ যখন বলেছিলো "মাইট তুমি কোন দেশ থেকে আসিয়াছো ?" বলার সময় অন্তত তাকে মন্ত্রি বলে মনে হয়নি কখনোই। যাই হোক, তুলনা করতে গেলে অনেক কিছু আনা যেতে পারে। ইচ্ছে করছে না এখন সেটার।

কেডিন রাডের ভক্ত হিসেবে কেভিন রাডকে চর্মচক্ষুতে দেখতে পেয়ে বেশ পুলকিত। বলা যায় না, কোনো একদিন তার সাথে দেখা করবার জন্য চলেও যেতে পারি তার অস্থায়ী ঢেরায়। আমার বাসার আশে পাশেই তো উনারা থাকেন। শখ করে সন্ধ্যায় যেই ক্যাফেতে কফি খেতে যাওয়া হয় সেখানে প্রায়শই হয়তো দু একজনকে চোখেও পরে। এরা সাধারন মানুষের কাতারে নেমে আসতে পছন্দ করেন, হয়তো অনেকটুকুই দেখানোর জন্য। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের অনেক কিছুই শেখার আছে, যদিও তারা কোনো দিনই শেখবেন না।

কেভিন রাডকে দেখতে পেয়ে সারাটা দিন ভালোই গেলো আমার। 

1 টি মন্তব্য :

  1. ভাইয়া আমি UK এর নির্বাচনের সময় গর্ডন ব্রাউনকে সরাসরি দেখেছি রাস্তায় হেটে হেটে প্রচার করতে। কিন্তু যেটা সবচেয়ে ভাল লেগেছে উনার সাথে মাত্র ১০-১২ জন চেলা(!) ছিল। বাংলাদেশের মত ট্রাক ভর্তি করে হায়ার করে আনেন নি।

    উত্তর দিনমুছুন

আপনার মন্তব্য পেলে খুশি হবো, সে যত তিক্তই হোক না কেনো।
পোস্টে মন্তব্যের দায়-দায়িত্ব একান্তই মন্তব্যকারীর। মন্তব্য মডারেশন আমি করি না, তবে অগ্রহনযোগ্য ( আমার বিবেচনায় ) কোনো মন্তব্য আসলে তা মুছে দেয়া হবে সহাস্য চিত্তে।