শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১০

তুমি ঠিকই ছিলা, সেই ভুল ছিলো

তখন আমরা পুরান ঢাকার আগা মাসি লেন এ থাকি। বঙ্গ বাজার থেকে কাজি আলাউদ্দীন রোড ধরে নাজিরাবাজারের দিকে যাবার সময় হাজির বিরিয়ানীর ঠিক আগের 'গল্লিতে' থাকি আমরা। নিচে বাড়ি ওলার প্রিন্টিং প্রেস, উপরে আমরা।

বাসা থেকে বের হবার সময় কাজি আলাউদ্দিন রোড ধরে যখনই যাওয়া হতো তখনই রাস্তার ডানে সাজানো গোছানো একটা রিকশা দেখতাম। শুনেছি ঐ রিকশা নাকি শুধু আওয়ামী লিগের মিছিলে বা প্রচারনায় ব্যবহৃত হতো। ভয়ানক ইচ্ছে ছিলো সেই রিকশা মালিকের সাথে পরিচিত হবার। পাশের গলিতেই অন্ধকার ছোট্ট দু কামরার সেই বাসায় যাবার পর  দেখি বঙ্গবন্ধুর সাথে বাড়ির মালিকের ছবি। বঙ্গবন্ধুর অন্ধ ভক্ত সেই বৃদ্ধলোকটি আরো কতগুলো ছবি দেখালেন বঙ্গবন্ধুর। ইচ্ছে হচ্ছিলো ২/১ টি ছবি সড়িয়ে দেই। অন্য কোথাও সেই ছবি আর দেখিনি। দু কদম হাঁটলেই ছিলো খন্দকার মোশতাকের বাড়ী। খন্দকার মোশতাক কখনোই বাড়ীর থেকে বের হতো না। সে মারা যার পর আগা মাসিহ লেন মসজিদে তার জানাজাও করতে দেয়া হয়নি। মোশতাকের কথা জিজ্ঞেস করার পর উনি (লেখার মতো নয়) এক গালী দিয়ে বলেছিলেন " ................ " ।

অনেক বছর যাওয়া হয়নি দেশে। উনার সাথে দেখাতো দূর কা বাত। তবে ইচ্ছে আছে পরবর্তীতে দেশে গেলে দেখতে সেই লোকটি এখনো বেঁচে আছেন কি না। বেঁচে থাকলে এখনো কি সেই ছোট্ট অন্ধকার বাসায় আছেন ! এখনো কি সেই ছোট্ট ।‌ ব্যবসা করছেন  ! এখনো কি বঙ্গবন্ধুর অন্ধ ভক্ত আছেন ?

শত প্রলোভনেও এই লোকটি কিন্তু সেই সময় তার আদর্শ থেকে সরে আসেননি। শত চাপেও উনি ১৫ অগাস্টে বঙ্গবন্ধুকে স্বরন করেছেন, ৭ই মার্চেই সেই আগুন ঝড়া বক্তৃতা শুনিয়েছেন সবাইকে। জানতে ইচ্ছে করে এখনো কি উনি সেই রকমই আছেন না আর দশটা মানুষের মতোম লোভের স্রোতে গা ভাসিয়েছেন।

ইচ্ছে করেই লোকটির নাম বলছি না। যেখানে সেই লোকটি নিজের নাম কামাতে চান না সেখানে আমিই বা আগ বাড়িয়ে কেনো বলতে যাবো।

কে জানি বলেছিলো মানুষের বয়স হয়ে গেলে নাকি অহেতুক স্মৃতিচারন করে। এই পোস্টও অহেতুক স্মৃতিচারন। বিলকুল বয়স হয়ে যাবার লক্ষন।

শীরোনামের সাথে পোস্টের সম্পর্ক নাই। ইচ্ছে করেই এটা করা হয়েছে।

1 টি মন্তব্য :

  1. একজন মানুষ যাকে ঘিরে আরও লক্ষ মানুষ এর ভালোবাসা, স্মৃতি...
    শ্রদ্ধা!

    উত্তরমুছুন

আপনার মন্তব্য পেলে খুশি হবো, সে যত তিক্তই হোক না কেনো।
পোস্টে মন্তব্যের দায়-দায়িত্ব একান্তই মন্তব্যকারীর। মন্তব্য মডারেশন আমি করি না, তবে অগ্রহনযোগ্য ( আমার বিবেচনায় ) কোনো মন্তব্য আসলে তা মুছে দেয়া হবে সহাস্য চিত্তে।