বৃহস্পতিবার, ৩০ ডিসেম্বর, ২০১০

মাদামের লগে শপিং করলুম

1 টি মন্তব্য :
মাছের বাজারে কালামের কাছ থেকে কে সবচাইতে বড় রুই মাছটা কিনলো বা কে গৌরাঙ্গ বাবুর মুদির দোকান ওরফে গৌরাঙ্গ ভ্যারাইটি স্টোর থেকে ভাতের চাল হিসেবে কালিজিড়া কে কেনে সেটা জানার কৌতুহল কোনো কালেই ছিলো না। তবে জানা ছিলো আশে পাশে অনেকেই কেনে। বেতন যাই হোক না কেনো বাজারের সেরাটা তার চাইই চাই। আসলে ছোট থেকে চার পাশে ঘুষের টাকার এতো ছড়াছড়ি দেখেছি যে তা গা সহা হয়ে গিয়েছিলো। এ মুহুর্তে আন্টিদের গহনা বা শাড়ির প্রতিযোগীতা কথা বাদই দিলাম।

কিছু দিন আগের কথা। হাতে টাকা পয়সা তেমন নেই (এটা কোনোকালেই তেমন একটা থাকে না)। সুপার মার্কেট ঘুরে ঘুরে কোন জিনিস স্বস্তায় দিচ্ছে বা স্পেশালে আছে তা খুঁজে খুঁজে কেনার চেস্টা করছি।

গল্পের খাতিরে এখানে একটু বলা নেয়া দরকার যে, "হোমব্রান্ড" নামে একটা ব্র্যান্ড এখানে পাওয়া যায়। ভালো জিনিসই এরা দেয় কিন্তু বাজারের অন্য সব নাম করা ব্র্যান্ডের চাইতে অনেক কম দামে। যেমন ধরা যাক, হোম ব্র্যান্ডের চিনির ৩ কেজির প্যাকের দাম যদি হয় ২ ডলার তবে 'সিএসআর' এর চিনির দাম হবে ৪ ডলার। চায় চিনি মেশানোর পর সব চিনিই একই, সে মকবুল ব্র্যান্ড হোক আর সিএসআরই হোক। আমি হোম ব্রান্ডের জিনিস কিনি সবসময়ই। হোম ব্র্যান্ডের পণ্যগুলো কিন্তু শেলফের নিচের দিকে থাকে। ক্রেতারা সেগুলো কিন্তু সেখান থেকেই তুলে নেন। দামি গুলো সেলফের চোখের সমান্তরালা রাখা হয় যাতে সহজেই চোখে পরে।

এখন গল্পে ফেরত আসা যাক। গল্পের প্রধান চরিত্রের সাথে প্রথম মোলাকাত সেখানেই। আমি উবু হয়ে নিচের শেলফ থেকে চিনি নেবার সময় শুনি পাশে বাঙলায় আলাপ চারিতা। গল্পের নায়িকা হোমব্রান্ডের জিনিস কেনেন না, উনি কিনবেন সিএসআর ! তাকিয়ে দেখতে ইচ্ছে হলো উনার বদন মুবারক। উনি সিএসআর এর চিনি কিনলেন। পেছনে ট্রলি ঠেলা মানুষটির দিকে বুঝে উঠতে পারলাম সে হেল্পিং হ্যান্ড, বাংলায় যাকে কাজের ছেলে বলা যায়। নায়িকার সাথে উনার পুত্রধনও। রাজপুত্রকে চেনা চেনা লাগছিলো, মনে হচ্ছিলো কোথায় যেনো দেখেছি।

কৌতুহল হলো নায়িকার পরিচয় জানবার। মফিজের মতো তো তাকে জিজ্ঞেস করা যায় না যে ' মাদাম আপনার পরিচয় !'। ভাবলাম পেছনে পেছনে হাঁটি উনাদের, দেখি কি কেনেন উনারা। হাতে সময় ছিলো যথেস্ট । তথাস্হ, হাঁটা শুরু করলাম।

উনারা এই আইল থেকে ঐ আইলে যান। আমি নিরাপদ দূরত্ব থেকে লক্ষ্য করি উনাদের ও আর চোখে তাকিয়ে দেখি কি কেনেন উনারা। আস্তে আস্তে পুরো ট্রলি দেখি ভর্তি হয়ে গেলো হড়েক রকম জিনিসে। পুরোটা সময়ই লক্ষ্য করেছি উনি কি কেনেন। সব সে সব ব্রান্ডের জিনিস যা সব সময়ই আমি এড়িয়ে চলি সেটা কেনার সাহসের অভাবেই হোক আর পকেটের সীমাবদ্ধতার কারনেই হোক। উনি কিনছিলেন আর সেটা কোনো জিনিসের কি দাম সেটা পরখ না করেই। তথাকথিত স্বস্তা ব্র্যান্ড গুলো যতন সহকারে এড়িয়েও যাচ্ছিলেন।

আমি কিন্তু বেশ অবাক হয়েছিলাম। অনেক বাঙালিকেই চিনি যাদের আর্থিক সক্ষমতা সম্পর্কে ভালো ধারনা আছে। উনাকেতো চিনতে পারছি না না ! ক্যানবেরাতে কি কোনো মাল্টি মিলিওনারের আগমন ঘটলো যাকে আমরা চিনি না ! ? চেক আউটের কাছে গিয়ে দেখবার আগ্রহ ছিলো কত হলো সব মিলিয়ে। উপায় ছিলো না বলে দেখা হলো না। আফসুস!

দূর থেকে তাকিয়ে দেখছিলাম গল্পের নায়িকাকে। নায়িকার চেহারার পরতে পরতে ঔধ্যত্ব। পারলে মনে হয় চেকআউটের বালিকাকে কাঁচা খেয়ে ফেলেন উনাকে যথাযথ সম্মান না দেখানোয়। মনে মনে মনে হয় বলছিলেন " বেটি আমারে চিনস আমি কে, সম্মান করে ম্যাডাম ডেকে কথা ক, নইলে তোর চাকরি খায়ালামু কাঁচ্চা "।

কিছু দিন আগে ওয়েবে হারমনিয়াম বাজানো রত গল্পের নায়িকার ছবি দেখার সাথে চিনে ফেল্লাম। আরে এই তো সে ! না উনি কোনো মাল্টি মিলিওনার না বা মাল্টি মিলিওনারের পত্নী নন। বাংলাদেশ সরকারের লে.জে লাগানো প্রতিনিধির সহধর্মিনী। গরিব দেশের বড় লোক প্রতিনিধি। এত দিন অনেক কথা শুনেছি 'মাদামের' সম্পর্কে। সে দিন সুপার মার্কেটে চক্ষু কর্নের বিবাদ মিটেছিলো।

অনেক দিন পর একজনের ঔধ্যত্বপূর্ন অহংকারী চেহারা দেখলাম। দেখলাম বেহেসাবী খরচ। অস্ট্রেলিায়ায় কাজের ছেলেকে নিয়ে কাউন্টেসের সদাই যজ্ঞ দেখলাম। সেই রকম সদাই। চোখ জুড়ানো, মন খারাপ করানো।

মঙ্গলবার, ২৮ ডিসেম্বর, ২০১০

বাবালা আমার

৫টি মন্তব্য :
পিতা হওয়ার অনুভূতি সবসময়ই অন্যরকম। সেটা পৃথিবীর অন্য কোনো অনুভূতির সাথে তুলনা করা যায় না। এই অনুভূতিকে ফুটিয়ে তোলার জন্য যতই অলংকার ব্যবহার করা হোক না কেনো মনে হয় কোথায় যেনো ফাঁক রয়ে গেলো, প্রতিনিয়তই মনে হয় এই বুঝি আরেকটু লেখা যেতো।

৪ ডিসেম্বর ২০১০ এর সকাল ৮:১৮ যেনো অন্য রকম একটি সকাল। কোনো রকম প্রস্তুতিই ছিলো না আমাদের মাঝে। আমরা দিন গুনছিলাম সামনের দুটি মাস কিভাবে যাবে তার পরিকল্পনা করে।

নতুন বাসা গোছানোর  ব্যস্ততার মাঝে হঠাৎই হাসপাতালে যাবার তাড়া । ডাক্তার বল্লো রাতটি হাসপাতালে থেকে যেতে। দিব্যকে নিয়ে যখন বাসায় এলাম তখনও জানতাম না কি অপেক্ষা করছে সামনে। ভোরে একজনকে দেশের উদ্দেশ্য বিদেয় দিয়ে যখন বাসা ফেরার পরিকল্পনা করছি তখন হাসপাতালে যাবার তাড়া পেলাম। ছেলেকে এক বাসায় রেখে তড়িঘড়ি করে বাসায় এসে যেই না গরম গরম পরোটায় দু কামড় দিয়েছি সেই মাত্র মিডওয়াইফ এর ফোন, আমাদের দ্বিতীয় সন্তান আসছে পৃথিবীতে। পড়িমড়ি করে ছুটে যাবার আধেক ঘন্টার মাঝেই "শুভ্রের" কান্না, সাথে কি আমিও একটু কেঁদেছিলাম?

পৃথিবীর অনেক কিছুই হিসেব মতো হয় না। "শুভ্রের" আসার কথা ছিলো সেই ফেব্রুয়ারীতে, সে চলে এলো ডিসেম্বরে। 'থাকবো নাকো বদ্ধ ঘরে , দেখবো এবার জগৎ টাকে' গান গাইতে গাইতে ছেলে আমার আর তর সইতে পারলো না। চলে এলো আমাদের মাঝে।

কোনো রকম প্রস্তুতিই নেই তখন আমাদের মাঝে। অর্ধযুগ পর পরিপূর্ন বেকার আমি। ছেলের নামও ঠিক করা হয়নি। হাতে টাকাও নেই বাড়তি কিছু খরচ করবার মতো। পাশে দাঁড়ানোর মতো কেউ নেই যে একটু সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দেবে মমতায়। সব কিছুই নিজের উপরে। তারপরো কোনো কিছু থেমে থাকেনি। আল্লাহর রহমতে সব কিছু এতো সুন্দর ভাবে সব কিছু হয়েছিলো যে মনেই হয়নি আত্মীয় স্বজন হীন এই দেশে একলা মানুষটি একবারের জন্যও বিচলিত হবো।

জন্ম মুহুর্তগুলো ছিলো কেমন যেনো অন্যরকম। দু মাসের প্রি ম্যাচিউরড ছেলে আমার কাঁদছে, বউ বলছে কাঁদছে না কেনো ! মিডওয়াইফ ম্যাগি অভয় দিয়ে বলছিলো ঐ যে তোমার লিটল ওয়ান কাঁদছে। নার্সরা তখন ব্যস্ত ছোট্ট পুতুলের মতো ছেলেটিকে পরম মমতা ও দক্ষ হাতে ইনকিউবেটরে ঢোকাতে ও সব রকম লাইফ সাপোর্ট এর ব্যবস্থা করতে। ছোট্ট পুতুলটিকে ওরা নিয়ে গেলো ইন্টেনসিভ কেয়ারে। ডেলিভারী স্যুটে শুধু আমরা তিন জন।

প্রতিটি জন্ম মুহুর্তই স্বর্গীয়। তা সে বাগানে সদ্য ফোটা বুনো ফুল হোক আর ডিম ফুটে বাচ্চা বের হওয়া কিচির মিচির করা এক দল শিশু হাঁসের ছানাই হোক।

আমার ছোট্ট বাবাটি ভালো আছে। কোনো রকম সমস্যা নেই। দেখতে দেখতে কিভাবে যেনো ২৪ টা  দিন পার হয়ে গেলো টেরই পাচ্ছি না। প্রতিদিন সময় করে যাই বাবাকে খাওয়াতে। ডাক্তার বলেছে আর দু হপ্তা থাকতে হতে পারে। বাবালাকে যখন বুকে জড়িয়ে ধরি তখন কি যে ভালো লাগে। বাবালার কানে কানে আজ বলেছি, ' বাবা তোমার কত ভাগ্য তুমি এ দেশে জন্মিয়েছো, তোমার জায়গায় আমি হলেতো মরেই যেতাম"।

ছেলে আমার ভালো আছে। ছেলের মা ভালো আছে। হয়তো জন্মে মিস্টি খাওয়ানো হয়নি কাউকে, হয়তো বলার মতো তেমন কিছু কেনাও সম্ভব হয়নি ছোট বাবালার জন্য তারপরো বাবা মার ভালো বাসা পরতে পরতে জড়িয়ে আছে, দাদা - দাদু - নানা - নানুর দোয়া ঘীরে আছে তোমাকে। মানুষের মতো মানুষ হও বাবালা আমার।

সোমবার, ২০ ডিসেম্বর, ২০১০

কত কিছু যে ঘটে গেলো এই কটা দিনে

২টি মন্তব্য :
দ্বিতীয় বারের মতো পিতা হলাম।
৪ ডিসেম্বর সকাল ৮:১৮ টা যেনো অন্যরকম ভাবে লেখা হলো মনের মাঝে।

প্রায় অর্ধযুগ পর নতুন  ঠিকানা লিখতে শুরু করেছি॥॥
নতুন চাকুরি , নতুন আবাস, নতুন টেলিফোন নাম্বার, নতুন বস, নিত্য নতুন সব অভিজ্ঞতা।

নিদারুন ব্যস্ততা, পাশে দাঁড়ানোর কেউ নেই।
কুচ পরোয়া নেহি, ওয়ান ম্যান আর্মি ।

কত কিছু যে লিখতে ইচ্ছে করছে। আজ না হয় তো আরেকদিন লেখা হবে।

আল বিদা ইয়া হাবিবী।

বুধবার, ৩ নভেম্বর, ২০১০

তিন নিখোঁজ আতরাফ ও আশরাফের নিখোঁজ সারমেয়

২টি মন্তব্য :
প্রজাতন্ত্রের কোনো সংস্থা যখন কোনো ঘটনার সাথে যুক্ত থাকে তখন সেই ঘটনার দায়ভার সরকারের উপর বর্তায়, তবে তৃতীয় বিশ্বের ( মুলত ) তথাকথিত গনতান্ত্রিক সরকার গুলো বরাবরই এই দায়ভার এড়িয়ে যায়। আবার সরকার যখন নিজেই এইসব ঘটনার সাথে যুক্ত থাকে তখন দায় ভারের প্রশ্ন না তুলে সরকারের নৈতিক ও আইন গত বৈধতা নিয়ে প্রশ্ন তোলা যেতে পারে। দেশে অনেক নিখোঁজ ঘটনার সাথেই সরকার ও তার সংস্থা যুক্ত যা জানা কিন্তু প্রমান করা দূসাধ্য যখন বিচার ব্যবস্থাই দূর্ণীতিগস্থ ও দলীয় ভাবধারার চালিত।

রূপগঞ্জের ঘটনা আবারো প্রমাণ করে দিলো যে রাস্ট্রের ভেতরের কালো শক্তি কত শক্তিশালী। সরকার বা রাস্ট্র এখানে পুতুল মাত্র। সাংবাধিক ভাবে সকল নাগরিক সমান হলেও এটা আদৌ কখনো সেটা দাঁড়াতে পারেনি। এই ব্যবধানটা এতোই নগ্ন যে সেখানে প্রশ্ন তুল্লে জীবন নিয়ে দেশ ছাড়তে হয়।

এ দেশে এখনো দিনে দুপুরে একজন নাগরিককে অন্য দেশের গোয়েন্দা সংস্থার হুকুমে বিনা পরওয়ানায় অন্য দেশের বিমানে তুলে দেয়া যায়, এ দেশে এখনো বিনা পরওয়ানায় একজন নাগরিককে ক্যাম্পে তুলে নিয়ে পেটানো যায়, এ দেশে এখনো একজন প্রতিবাদী নাগরিককে প্রকাশ্যে তুলে নিয়ে রাতের আঁধারে গুলি করে মাঠে ফেলে রাখা যায়। বিচার ব্যবস্থা এখানে নিশ্চুপ থাকে। সুশীল সমাজ নামক নপুংশকরা এটা দেখেও কাপুরুষের মতো চুপ থাকে।ঢাকা ক্যান্টের ডিজিএফআই এর এইচ কিউ এর রক্তমাখা দেয়ালগুলো এখনো রক্তে রাঙানো হয় !! এগুলো জানা কিন্তু প্রমান করার দায় ও সাহস এ রাস্ট্রের নাই।

রূপগঞ্জে তিনটা মানুষ নিখোঁজ। আতরাফ গোত্রীয় এই তিন জনের নাম সাইদুল ইসলাম, আবদুল আলীম মাসুদ এবং শমশের মোল্লা ।  দেশে কোনো আশরাফের সারমেয় নন্দন হারিয়ে গেলে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী সেটি উদ্ধারে আদা জল খেয়ে ঝাঁপিয়ে পড়ে সেখানে তিনজন জলজ্যান্ত মানুষের কোনো খোঁজ তারা বের করতে পারছে না, বিষয়টি ভাবতেই তো কেমন লাগে!  পত্রিকায় বলা হয়েছে, এ তিনজন যুবকের লাশ রেবের গাড়িতে তোলার প্রত্যক্ষদর্শী সাক্ষী আছে। মাসুদের বাবা নিজে তাঁর গুলিবিদ্ধ ছেলেকে রেবের গাড়িতে তুলতে দেখেছেন বলে জানিয়েছেন। নিখোঁজ ব্যক্তিকে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনী খুঁজে এনে তাদের স্বজনদের কাছে ফিরিয়ে দেবে, এমনটাই একটি সুস্থ স্বাভাবিক রাষ্ট্রব্যবস্থার প্রত্যাশা। কিন্তু এখানে দেখা যাচ্ছে, খুঁজে দেবে কী, বরং মানুষকে নিখোঁজ করার অভিযোগই উঠছে আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্যদের প্রতি। ( এ অংশটুকু আরিফ জেবতিকের নোট থেকে নেয়া হয়েছে )।

এই নাকি গনপ্রজাতন্ত্রি বাংলাদেশ যেকানে "গণ" দেরও কোনো স্থান নেই।

অভিজ্ঞতা বলে - চলমান ১

কোন মন্তব্য নেই :
হ্যান্ড শেক শব্দটার বাংলা অনুবাদ করতে গেলে সেটায় আমরা করমর্দন বলি, যদিও সে সময় হাত 'মর্দন' করার সাথে সাথে ঝাঁকাঝাঁকিও চলে সমান তালে। হ্যান্ড শেক করবার সময় মানুষের আন্তরিকতা বোঝা যায়। আলতো ছোঁয়ার করমর্দনে আর যাও হোক আন্তরিকতা বোঝা যায় না, সেটা হয় নিতান্তই আনুস্টানিকতা বা লোক দেখানো ভদ্রতা। আবার তাই বলে প্রচন্ড জোরে কুস্তিগীরের মতো হাত চেপে এদিক ওদিক ঝাঁকালেও শরীরের সাথে সাথে মনেও চাপ ফেলে। আমি বাপু আর্ম রেসলিংতো করতে যাচ্ছি না।

চোখে চোখে কথা বলার মাঝে আত্নবিশ্বাসের সাথে সাথে ভদ্রতা ও কথা বলার আগ্রহ প্রকাশ পায়। কোনো এক কালে এক ভদ্রলোকের সাথে আলাপ চারিতার সময় হঠাৎ লক্ষ্য করেছিলাম উনার চোখ আসে পাশে বার বার ঘুর পাক খাচ্ছে। অথচ সেদিনটা ছিলো আমার জন্য বেশ গূরুত্বপূর্ন একটি সময়। উনি মুখে বলছিলেন আমার সাথে কথা বলার জন্য উনি নাকি অধীর আগ্রহে সময় গুনছিলেন কিন্তু তার চোখ বলছিলো অন্য কথা। ২ সন্তানের জনক সেই ভদ্রলোকের চোখ বার বার ঘুড়ছিলো পাশের টেবিলে বসা সল্প বসনা দুই কিশোরীর দিকে !

শেখ সাদির সেই গল্পটার কথা আমরা সবাই অন্তত একবার হলেও শুনেছি। সেই পোষাক নিয়ে গল্পটার কথা মনে আছে না ? অভিজ্ঞতা বলে, শেখ সাদি ঠিকই বলেছিলেন। পড়নের "পোষাক" মানুষের কাছ থেকে সম্মান ও যত্ন আত্তি এনে দেয়। পোষাককে যদি রূপক অর্থে 'আর্থিক অবস্থার' সাথে তুলনা করি তবে দেখা যাবে যার যত আর্থিক অবস্থা ভালো সেই তত সম্মান পাচ্ছে, হয়তো দেখানো তবুওতো পাচ্ছে। গরীব বা তুলনামুলকভাবে দূর্বল মানুষটির দিকে তাকানোর সময় বা আগ্রহই কারো নেই। অথচ সেই মানুষটির অবস্থার পরিবর্তন ঘটলে দৃশ্য বদলে যায়, তেলে মাথায় তেল দেবার জন্য সবার মাঝে অদৃশ্য প্রতিযোগীতা শুরু হয়। এ থেকে খুব কম মানুষই দূরে থাকতে পারে। অভিজ্ঞতা বলে, এই অল্প মানুষকে খুঁজে নিতে হয়, এরাই প্রকৃত মানুষ।

সমালোচনা করতে আমরা প্রচন্ড ভালোবাসী। এই আমার কথাই ধরুন না, সমালোচনা করার মতো ব্যক্তি বা বস্তু পেলেই হলো। মহা উৎসাহে নেমে পড়ি কোনো কিছু আগ পাশ না ভেবেই। অথচ কেউ নিজের সমালোচনা করলেই তেলে বেগুনে জ্বলে উঠি, আত্ম পক্ষ সমর্থন করবার নাম করে সেটার প্রতিবাদ করি। অভিজ্ঞতা বলে, সমালোচনা সহ্য করবার ক্ষমতা অর্জন করা অবশ্যই জরুরী , আর যদি সেটা হয় গঠনমুলক সমালোচনা। যদি কেউ ইচ্ছে করে নিরুৎসাহিত করবার জন্য সমালোচনার খাতিরে সমালোচনা করে সেটা বোঝারও ক্ষমতা থাকতে হবে। নিজেকে পরের দর্পনে দেখবার ক্ষমতা থাকতে হবে। সমালোচনাকারীকে বন্ধু হিসেবে দেখলে অনেক ফায়দা হবে ( তাবলিগী ব্রাদারদের শব্দ ধার করলাম)।

মঙ্গলবার, ২৬ অক্টোবর, ২০১০

ব্লাডি ফেয়ার ডিংকুম ৯

২টি মন্তব্য :
দূপুরে বাজার সদাই করবার জন্য পেনরিথের কোলসে গেলাম। সুপার মার্কেট এতো বিশাল হবে সেটা কল্পনাতেই ছিলো না। যে দিকে চোখ যায় শুধু হড়েক রকম প্রোডাক্ট, হাত ছানি দিয়ে ডাকছে আয় আয় আমায় কিনে নে ! ঢাকায় সে সময় মাত্র সুপার মার্কেট গড়ে উঠছে। কোনো বহুতল বিল্ডিং এর দু একটা ফ্লোর বা মার্কেটের বড় সরো ফ্লোর নিয়ে গড়ে উঠা সুপার মার্কেট। মহল্লার মুদির দোকান দেখে অভ্যস্থ চোখ সেগুলো দেখেই অবাক হতো, আর পেনরিথের সেই বিশাল সুপার মার্কেট দেখে ভড়কে যাবারইতো কথা।

সুপারমার্কেটর সেল্ফে থরে থরে সাজানো জিনিস পত্র দেখে মনে হচ্ছিলো কোনটা ফেলে কোনটা নেবো। ডলারকে টাকায় বার বার কনভার্ট করা দেখে সবাই হাসছিলো, আমার কিন্তু মনে হচ্ছিলো জিনিসগুলো এত দামি কেনো ! কি আর করা। সোহেলকে দেখলাম ১ টা রশুন, ৩ টা পেঁয়াজ, ৪ টা আলু -- এভাবে কিনতে। দেশে এভাবে কিনলে হয়তো দোকানদার পাগল ঠাওরাতো।

দূপুরের খাবার দাবার সেরে সবাই মিলে গেলাম সিডনীর ডার্লিং হারবার বেড়াতে। বন্ধু পত্নীর শখ মনো রেলে উঠবে ! মনোরেলে সিডনী সিবিডির চারপাশ ঘুড়ে ডার্লিং হারবারে নেমে চোখ ধাঁধানো সব রেস্টুরেন্ট, চক চকে ঝকঝকে দোকান পাটে তথাধিক দামি জিনিস পত্র দেখে কিছুটা অসহায় যে লাগেনি সেটা বল্লে মিথ্যে বলা হবে।

দিনটি ছিলো ১৪ ই ফেব্রুয়ারী, ভ্যালেন্টাইনস ডে। ডার্লিং হারবারে প্রিয়তমাকে নিয়ে ব্যস্ত সবাই মধ্যাহ্ন ভোজনে। সব কিছু দেখে দেশে রেখে আসা মানুষটির কথা মনে পড়ছিলো। কেনো জানি বেড়াতে ভালো লাগছিলো না সে সময়টুকুতে। বার বার দেশের কথা মনে পড়ছিলো।

সিডনীর আকাশ ছোঁয়া ভবনগুলো দেখে মন হচ্ছিলো এরা বুঝি আকাশ ছোঁয়ার প্রতিযোগীতায় মত্ত। প্রথম বারের মতো কোনো উন্নত দেশে আসলে যা হয় সেটিই হচ্ছিলো আমার মাঝে। পথে ঘাটে প্রেমিক প্রেমিকার প্রকাশ্যে চুম্বন নিজের মাঝে সনাতন চিন্তাচেতনাকে বার বার ধাক্কা দিচ্ছিলো। এভাবেই কালচারাল শকের প্রথম ধাক্কাটা খাই।

এর পর সবাই মিলে যাই ম্যানলি বিচে। কোনো রকম প্রস্তুতিই ছিলো না, হুট করেই যাওয়া। ভারত মহাসগার দেখিছিলাম, দেখা হলো প্রশান্ত মহাসাগরের সান্নিধ্য পাওয়া।

রবিবার, ২৪ অক্টোবর, ২০১০

ব্লাডি ফেয়ার ডিংকুম ৮

কোন মন্তব্য নেই :
সেদিনের সন্ধ্যাটা ছিলো অন্যরকম। কেমন যেনো সেটা বলে বোঝাতে পারছি না। টার্মিনাল থেকে হেঁটে হেঁটে বন্ধুর গাড়ি পর্যন্ত আসতে মনে হচ্ছিলো আকাশটা কতো পরিস্কার। ফেব্রুয়ারীর মৃদুমন্দ আবহাওয়া মন্দ লাগছিলো না।

গাড়িতে বসে বাসায় ফোন দিলাম। এখনো মনে আছে ১ মিনিট ১৬ সেকেন্ড কথা বলেছিলাম। এটাও মনে আছে, মোবাইলে এই অল্প সময় কথা বলার জন্য যে ডলার টুকু খরচ হয়েছিলো সেটার জন্য সেই কন্জুস বন্ধুর আত্মায় হয়তোবা দু এক খান ঘাও লেগেছিলো। চারদিকে ঝলমলে আলো, হড়েক রকম গাড়ি। নীড় ফেরায় ব্যস্ত মানুষগুলোর গাড়ী পিঁপড়ের সারিরে মতো এই ধীরে এই জোরে এগিয়ে চলছে। তাদের মাঝে আমি ও আমরা এবং আমাদের গাড়ি।

ওয়ালীপার্ক বলে এক সাবার্বে আমার এক বন্ধুর বন্ধুর বাসা ছিলো, সে রাতে ওখানেই উঠেছিলাম। যদিও ইচ্ছে হচ্ছিলো সোহেলের বাসাতই উঠি। প্রচন্ড ক্লান্ত লাগছিলো সেময়, ইচ্ছে হচ্ছিলো বিছানায় শুয়ে টানা একটা ঘুম দেই মরার মতো। ওয়ালীপার্কে যে বাসায় ইঠেছিলাম সে বাসায় রাতুল নামে এক ছেলে তার আরেক ছেলের সাথে শেয়ার করে থাকতো। দুজনই ফোর্সড ব্যাচেলর, চরম অগোছালো একটা বাসা।

ক্লান্ত শ্রান্ত মানুষটি যখন ঘুমোনোর জন্য আঁতিপাঁতি করছে বিছানার খোঁজে তখন সাথের বন্ধুরা ব্যস্ত আড্ডায়। কারো মনে হয় এতটুকু বোঝার ক্ষমতা হয়নি সে একটা মানুষ হাজার হাজার মাইল ভ্রমন করে এসেছে, তার একটু বিশ্রাম দরকার। কোথা হতে কোনো এক লেবানিজ দোকানের হালাল পিজা নিয়ে আসা হলো রাতের খাবারের জন্য সাথে হারাম ওয়াইন। কি অদ্ভুত বৈপরত্ব মানুষের। পিজা খেলাম, ওয়াইন পান করলাম না। হালাল পিজা খাবার জন্য সেকি ঈমানী জোশ সেই সাথে মজাক করবার জন্য ওযাইন, বাহ !!

বাবার এক বন্ধুর মেয়েকে ফোন দিলাম, বল্লাম আপু সিডনী এসেছি। উর্মি আপা উনার বাসায় কেনো উঠলাম না বা কেনো আগে ভাগে জানালাম না সেজন্য একটু মাইন্ড করেছিলেন মনে হয়েছিলো। বল্লাম পরের বার যখন আসবো তখন অবশ্যই উনার সাথে দেখা হবে।

ঘুমোতে ঘুমোতে মধ্যরাত হয়ে গেলো, সময় তখন ৩ কি ৪ টা হবে। ঘুম যখন ভাঙলো তখন ঘড়িতে সকাল ৯ টা। নাস্তা না করেই সোহেলের বাসা পেনরিথের দিকে রওয়ানা দিলাম। প্রথমে ভেবেছিলাম খুব কাছেই হবে বাসা, পরে দেকি যেতে যেতে প্রায় ঘন্টা খানেক লেগে গেলো। ওর বাসায় এসে শান্তি পেলাম, মনে হলো নিজের বাসায় এলাম।

শুক্রবার, ২২ অক্টোবর, ২০১০

অভিজ্ঞতা বলে

1 টি মন্তব্য :
অভিজ্ঞতা বলে, বিপদে পাশে দাঁড়ানোর মতো মানুষ খুঁজে পাওয়া দায়। অভিজ্ঞতা এটাও বলে, মাঝে সাজে বিপদে পড়া উচিৎ সবারই, এতে বন্ধু চেনা যায়। দুধের মাছি বলে প্রবাদটাতো আর হাওয়ায় ভেসে আসনি।

অনেকেই আমায় দোষ দেয়, আমি নাকি সবকিছু বড্ড নিজের কাছে চেপে রাখি। অভিজ্ঞতা বলে , সবাইকে সব কিছু বলা যায় না। সমস্যায় কেউ হয়তো উদার মনে সাহায্যে চলে আছে আগপিছু না ভেবেই, কেউবা সাহায্য করবার ভান করে, কেউবা দূর থেকে মিটি মিটি হেসে খেলা শেষ হবার অপেক্ষায় রয়। অভিজ্ঞতাই বিপদের বন্ধু চিনিয়েছে আমায়।

এটাও বুঝতে পারি কেউ হয়তো মনে প্রাণে চাচ্ছি কিন্তু নানাবিধ সমস্যা বা সীমাবদ্ধতার কারনে তার পক্ষে কিছু করা সম্ভব হচ্ছে না। এটা বোঝার ক্ষমতা হয়ছে সময়ে। বিপদে আপদে - সুখে দূঃখে এভাবেই বন্ধু চিনেছি।

নিজ পিতাকে দোষ দেই কেনো তার বন্ধু নেই, কেনোইবা উনি হাতে গোনা মানুষের সাথে সম্পর্ক রাখেন। আজ এই বয়সে এসে ঠেকে ঠেকে শিখতে পারছি কেনো কেনো !!?? পিতাকে দোষ দেবার জন্য মনের মাঝে অন্যরকম অনুশোচনা জাগে। নতুন এক উপলব্ধি তৈড়ি হয়।

নিজে নিজেই সব সমস্যার সমাধান করবার চেস্টা করি বলে বন্ধুদের অনেকেই রাগ করে বা করেছে অতীতে। অভিজ্ঞতা বলে সমস্যার সমাধান নিজেকেই করতে হয়, প্রকৃত বন্ধুরা হয়তো সেই সমাধানকে সহজতর করে দেয় বা যখন কোনো কিছুই করবার থাকে না তখন পাশে এসে মানসিক প্রশান্তি জাগায়, সাহস জোগায়।

কেনো এই ব্লগ লিখছি হঠাৎ করে !
আমি কি সমস্যায় পড়েছি ? উত্তর হতে পারে দুটোই; হাঁ ও না। যে সমস্যার মুখোমুখি হচ্ছি সেটা অবশ্যই কেটে যাবে অতীতের আর দশটা বড় সমস্যার মতোই। হয়তো এই সময়ে কিছু প্রকৃত বন্ধু পাবো , হয়তো বন্ধুর ভেক ধরা কাউকে বন্ধু তালিকা থেকে বাদ দেবো। প্রাপ্তির খাতায় এটাইবা কম কিসের ?

বিদেশে যখন আসি তখন বাবা- মা অনেক চিন্তায় ছিলেন কিভাবে সবকিছু সামলাবো। অর্ধযুগ পেড়িয়ে এসে পেছনে তাকিয়ে দেখি সবকিছুতো ভালোভাবেই সামলিয়ে উঠেছি। হয়তো কিছু অতৃপ্তি রয়ে গিয়েছে কিন্তু প্রাপ্তির পরিমাণ অগুনতি।

জীবনটাই একরকম যুদ্ধের মাঝ দিয়ে যায়। কখনো জয়, কখনো পরাজয়। এভাবেই কেটে যায় আমাদের এই সব দিন রাত্রি।

সোমবার, ১১ অক্টোবর, ২০১০

কেরম কেরম

কোন মন্তব্য নেই :
কাল থেইকাই শরীলটা জানি কেরম কেরম কর্তেছিলো। তাও কামে গেলাম। কামের টাইমেও ভাল্লাগতাছিলো না।  বাসায় আইসা মনে হইলো শরীলডা জানি ভাইংগা পড়লো। বিছনায় শুইয়া শুইয়া কুঁকাঁ করি। বুকটায় কেরম জানি ব্যথা। চাইপা চাইপা ধরে। ডর খায়া গেলাম। জটিল কেইছ নাতো ! ফ্যামিলিতে আবার হাটের রোগের হিস্ট্রি আছে।
জিপিরে ফুনাইলাম, তেনায় বিজি আছেন। কাইলও নাকি ফুল্লি বুকড !!

হসপিটালে যাইতে ডরাই। ক্যঙারুর দেশে হালার সবই ভালো ‌তয় ইমারজেন্সিটা খতরনক। লাইন ধইরে বইসা থাকতে থাকতে সন্ধ্যা থেইকা সকাল হয়া যায় তবুও ডাক আসে না। আমার অবস্থা এরম না যে এম্বুলেন্স কল করুম আর আমারে তুইলা নিয়া যাইবো আর সোজা ভিত্রে নিয়া টেসটুস করা শুরু কর্বো।

আফটার আওয়ার ক্লিনিকে কল দিলাম। কইলো সন্ধ্যা ৯:৩০ এ যাইতে। ১০ মিনিট আগে পৌঁছায়া ভাবলাম বেশিক্ষন অপেক্ষা করন লাগবো না। তার পরো ৪০ মিনিট পড়ে ডাকতরের ডাক পাইলাম। বুড়ি ডাকতর এই খান ঐখানে টিপ টুপ দিয়ে, এক গাদা প্রশ্ন কইরা , কিবোর্ড বাজি কইরা কইলো সমস্যার কিছু নাই। দিলে শান্তি পাইলাম অনেক। রিব কেজের মাসল পেইন। দুইটা ওষুধ দিয়া কইলো সপ্তাহ খানেক খাইলে ভালো হয়া যাবে।

বাসায় আসার সময় দেখি রাস্তায় হালায় চুরও নাই। ১০:১৫ এ এরম মরার মতো তব্দা মাইরা যায় ন্যাশন ক্যাপিটাল। স্পিডোমোটারে তাকায়া দেখি আমি স্পিডিং করি। ব্রেকা পা দিয়া ৮০ তে নামায় আনি গাড়ি।

মনডা ভালোই এখন।আমার হালার  হাট ভালোই আছে।

শনিবার, ৯ অক্টোবর, ২০১০

আমার বাবালার দ্বিতীয় জন্মদিন

কোন মন্তব্য নেই :
 কি দ্রুত সময় পার হয়ে যায়। মনে হয় এইতো সেদিন । দিব্যের প্রথম জন্মদিনে অনেককেই আনন্ত্রন জানিয়েছিলাম, এবার কাউকেই বলিনি( আসলে ইচ্ছে করেই বলা হয়নি)। শুন্যের সাথে যুথবদ্ধতা।


কাজের ফাঁকে হুট করে কেক কেনা, ছেলের জন্য ছোট্ট একটা খেলনা, সন্ধ্যেবেলা তিনজনে মিলে কেক কাটা আর "রিচ ফুড" খাওয়া। এই নিয়েই সুন্দর একটা সন্ধ্যা।

  দুদিন ধরে শুধু ঘুড়ছিই, ১০০ কিমি/ঘন্টায় ছুটে চলা।

 বিঃদ্রঃরিচ ফুড নিয়ে একটা গল্প আছে, সেটা অন্য একদিন বলা যাবেখন।


শুক্রবার, ১ অক্টোবর, ২০১০

নয়া জিনিসের স্বোয়াদই আলিদা

কোন মন্তব্য নেই :
নিজেকে মাঝে মাঝে পিঁপড়ে মানব বলে মনে হয়। পিঁপড়ে যেমন প্রচন্ড পরিশ্রম করে ভবিষ্যতের জন্য খাদ্য সন্চয় করে  আমিও তেমন প্রচন্ড পরিশ্রম করে সন্চয় করি, হয়তো সেটা খাদ্য নয়; অন্য কিছু। মাঝে মাঝেই পিঁপড়ের কস্টের ধনও বানের পানিতে ভেসে যায়, এমনটি আমারও হয়। কোথায় যে চলে যায় কস্টার্জিত সন্চয় , নিজেও বুঝতে পারি না।

একটা গাড়ী কিনলাম গতকাল। নতুন কিছু কেনার স্বাদই আলাদা। অন্য রকম তৃপ্তিবোধ চলে আসে, যেমনটি এখন হচ্ছে।

ওম শান্তি। জগতের সকল প্রাণি সুখি হোক।

মঙ্গলবার, ২৮ সেপ্টেম্বর, ২০১০

ব্লাডি ফেয়ার ডিংকুম ৭

কোন মন্তব্য নেই :
বিদেশের বিমানবন্দরে সবুজ মোড়কের পাসপোর্ট ধারীদের  হড়েক রকম ঝামেলা পোহানো নিত্য স্বাভাবিক ব্যপার। কথায় আছে না , 'গরিবের বউ সবার ভাবি !' এ ক্ষেত্রে মনে হয় ভাবির প্রতি ভালোবাসা একটু বেশীই উপচে পরে। আমাদের ক্ষেত্রেও এমনটি হয়। ভালোবাসা এতো বেড়ে যায় যে  প্রায়শই সেটা মাত্রা ছাড়িয়ে যায় আর আমরা সেটা মুখ বুঝে সহ্য করি, বা একটু বেশী সুশীল ভদ্র হলেতো ওদের পক্ষেই সাফাই গাইতে শুরু করি এই বলে যে " টুকটাক এরকম হতেই পারে !! " ওদের দোষ না খুঁজে নিজেদের দোষ খুঁজে বেড়ানোর আপ্রান চেস্টা করি।

যাই হোক, নীল পোষাকের কাস্টমস মামু আমাকে নিয়ে কিছু একটা চেয়ারে বসিয়ে বুট জুতো জোড়া খুলতে বললেন। আমি সুবোধ বালকের মতো খুল্লাম। যেই না শার্ট খুলতে শুরু করেছি ( এটা ইচ্ছে করেই ) , মামা বলে , আরে না না শার্ট খুলতে হবে না, ভাগ্যিস প্যান্ট খুলতে শুরু করি নাই ! বুট জুতোয় কাদা মাটি মাখা ছিলো বলে তাতে নাকি জীবানু চলে আসতে পারে। সেটা উনারা পরিস্কার করে আনবেন। এর পর আবার কুকুর এনে পরীক্ষা করালেন , যদি আর কিছু বের করতে পারেন। তখন ভেবেছিলাম শুধু মাত্র আমাকেই এটা করা হচ্ছে। পাশে তাকিয়ে দেখি জনা দশেক সাদাকেও এটা করা হচ্ছে। উনারা সদ্য ভিয়েতনাম ঘুড়ে এসেছেন, সাথে নিয়ে এসেছেন এক গাদা ইন্দো চায়না জুতো- কাদা।

নীল মামা জিজ্ঞেস করলেন, কোথায় পড়তে যাচ্ছি। আমি চিঁচিঁ করে বললাম। উনি হেসে বললেন, "যাও মিয়া ছাইড়া দিলাম, এখন কোয়ারেনটাইনের চাচাগো লগে মিল মহব্বত করো"। বিমানে দেয়া ফর্মে ডিক্লেয়ার করেছিলাম যে সাথে খাবার আছে। সব কিছু চেক করে যখন চাচা মিয়ে খাবারটি হাতে নিয়ে জিজ্ঞের করলেন "বৎস ইহা কি বস্তু?" আমি বল্লাম " মোরোব্বা , চালকুমড়োর মোরোব্বা" । মোরোব্বার ইংরেজী কি হতে পারে তখন সেটা জানা ছিলো না, এখনো জানা নেই। যাই হোক যতি বলি চাচামিয়া সেটা বুঝতে পারে না। এর পর পাশের এক বিশাল বপু সর্দারজীকে ডেকে এনে জিজ্ঞেস করলেন এটা কি। এবার সেই সর্দারজী বুঝতে পারলেন " মোরোব্বা কি বস্তু"। ছেড়ে দিলেন।

বিমান থেকে নামার পর কখন যে দেড় ঘন্টা কেটে গিয়েছিলো টেরই পাইনি। ট্রলি ঠেলতে ঠেলতে ক্লান্ত শান্ত মানুষটি যখন গেট ' সি ' দিয়ে বের হয়ে আসলো তখন দেখি খুব অল্প কজন মানুষ দাঁড়িয়ে। সোহেলকে দেখলাম হাসতে হাসতে এগিয়ে আসছে।

গাড়ি থেকে বাসায় ফোন দিলাম। তাকিয়ে দেখি চারদিকে অন্ধকার। সময় কতোই বা হবে ! মাঝে মাঝে মনে হয় সন্ধ্যে ৭ টা, মাঝে মাঝে মনে হয় ৮ টা ! নাকি আরো বেশী; কনফিউজড হয়ে যাই।

জীবনের নতুন আরেকটি অধ্যায় শুরু হলে, নতুন দেশে নতুন জীবন। 


-----------------------

 

মঙ্গলবার, ৭ সেপ্টেম্বর, ২০১০

আহ কেভিন

1 টি মন্তব্য :
সকালে বাসের জন্য অপেক্ষা করছি। রাস্তায় বেজায় ভীড়। পিঁপড়ের সারির মতো গাড়িগুলো ধীরে ধীরে এগুচ্ছে। হঠাৎ একটি কারের  সামনের সিটে বসা মানুষটিকে দেখে আমিতো অবাক । সিটে বসা  কেভিন রাড , অস্ট্রেলিয়ার সদ্য প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রি। এখানকার সরকারী গাড়িগুলোর রেজিস্ট্রেশন নাম্বার দেখলেই বোঝা যায় । একা বসে আছেন। আনমনে কি যেনো করছেন। সামনে হুইসেল বাজানো পুলিশের গাড়ি নেই, পেছনে গাড়ির বহর নেই। মন্ত্রি আসছেন বলে সিগনালে সব গাড়ি বন্ধ করে মন্ত্রিকে এগুতেও দিচ্ছে না ট্রাফিক পুলিশ। আর দশটা সাধারন মানুষের মতোই চলছেন কেভিন রাড।

মাঝে মাঝেই বোকার মতোই বাংলাদেশের সাথে অস্ট্রেলিয়ার তুলনা করি। দুটো দেশের রাজধানীকে হাতের তালুর মতো চেনা বলে তুলনা করা অনেক সময় সহজ হয়। পেশাগত ও বাসস্থানের  ভৌগলিক অবস্থানের কারনে বেশ কিছু রাজনীতিবিদকে চেনাও আছে দু দেশেই। হয়তো ভেতরে দুদেশের সবাই একরকম হলেও অন্তত বাহ্যিক দিক থেকে ফারাকটা বেশ চোখে পরে, সেটা চেহারা বা চামরার রঙে নয়। সিনেটে ন্যাশনাল পার্টি লিডার বারনাবি হয়তো সংসদে অনেক উল্টা পাল্টা কথা বলেন কিন্তু সামনা সামনি কথা বলার সময় লোকটিকে অন্যরকম মনে হয় অথবা জুলিয়া বিশপ যখন বলেছিলো "মাইট তুমি কোন দেশ থেকে আসিয়াছো ?" বলার সময় অন্তত তাকে মন্ত্রি বলে মনে হয়নি কখনোই। যাই হোক, তুলনা করতে গেলে অনেক কিছু আনা যেতে পারে। ইচ্ছে করছে না এখন সেটার।

কেডিন রাডের ভক্ত হিসেবে কেভিন রাডকে চর্মচক্ষুতে দেখতে পেয়ে বেশ পুলকিত। বলা যায় না, কোনো একদিন তার সাথে দেখা করবার জন্য চলেও যেতে পারি তার অস্থায়ী ঢেরায়। আমার বাসার আশে পাশেই তো উনারা থাকেন। শখ করে সন্ধ্যায় যেই ক্যাফেতে কফি খেতে যাওয়া হয় সেখানে প্রায়শই হয়তো দু একজনকে চোখেও পরে। এরা সাধারন মানুষের কাতারে নেমে আসতে পছন্দ করেন, হয়তো অনেকটুকুই দেখানোর জন্য। আমাদের দেশের রাজনীতিবিদদের অনেক কিছুই শেখার আছে, যদিও তারা কোনো দিনই শেখবেন না।

কেভিন রাডকে দেখতে পেয়ে সারাটা দিন ভালোই গেলো আমার। 

শুক্রবার, ২৭ আগস্ট, ২০১০

ব্লাডি ফেয়ার ডিংকুম ৬

1 টি মন্তব্য :
বিমান যখন অস্ট্রেলিয়ার উপরে এলো তখন সময় যেনো ফুরোতেই চায় না। নিচে তাকিয়ে দেখি শুধু লাল আর লাল, যে দিকে চোখ যায় শুধু মৃতপ্রায় শুকনো খটখটে তেপান্তর। ৩৬ হাজার ফিট উপর থেকে সবকিছু প্রচন্ড একঘেয়ে  লাগছিলো, ঘন্টার পর ঘন্টা শুধু সেই একই দৃশ্য। আয়ার্স রকের কাছে আসতেই পাইলট বিমান ১৫ হাজার ফিট নিচে নামিয়ে বললো এই সেই বিখ্যাত আয়ার্স রকের । উপর থেকে দেখা হয়েছে এখনো নিচ থেকে দেখা হলো না। এ জনমে কত কিছু যে দেখবার বাকি রয়ে গেলো।

বিমান যখন সিডনীর আকাশে সূয্যি মামা তখন ঘুমুতে যাবায় ব্যস্ত। কখন যে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম টেরই পাইনি। ঘুম যখন ভাঙলো তখন তাকিয়ে দেখি পাশের সেই সুইস কাপল বিমানে কেনা কাটা করছেন। ক্যাটলগে দাম দেখে মনে হচ্ছিলো এত্ত দাম দিয়ে কেনার মানে হয় ! চারপাশে সবাই তখন নামার প্রস্তুতিতে হালকা ব্যস্ত।

সিংগাপুর এয়ারের সার্ভিস সেইরকম বলার মতো। ১০০ তে ১০০। একটি কেবিন ক্রুর কথা মনে আছে। পুরো সময়টুকুতে একই রকম সার্ভিস দিয়ে গেলো অক্লান্ত ভাবে। মাঝে মাঝে চোখ বন্ধ করলে মেয়েটার চেহারা আবছা আবছা মনে পড়ে। কি নিস্পাপ হাসি হাসি মুখ। 'গুড অন ইয়া সিস'

বিমান সিডনীর মাটি ছোঁবার মনে হলো এসেই গেলাম শেষ মেশ ! 


একটু হাঁটতেই প্রথমেই ইমিগ্রেশন। কোনো কিছু না বলেই হাসি মুখে সিল মেরে মধ্যবয়স্ক অফিসার যখন বল্লেন " ওয়েলকাম টু ডাউন আন্ডার"। বাহ এত দ্রুত সবকিছু হয়ে গেলো। নসিড়ি বেয়ে নিচে নেমে লাগেজের জন্য অপেক্ষা করছি। বিশাল বিশাল নান রঙের হড়েক আকারের সব লাগেজের মাঝে কোনটা যে আমার বুঝে উঠতে পারছিলাম না। হঠাৎ নীল শার্ট পড়া এক অফিসার, সাথে কুকুর নিয়ে আমার কাছে এসে দাঁড়িয়ে আমার পাসপোর্ট দেখতে চেয়ে জিগেস করলেন কোথায় যাচ্ছি। আমি উত্তর দেবার পর কুকুর দিয়ে আমার হ্যান্ড ব্যাগ চেক করতেই পেয়ে গেলো সিংগাপুরে খাবারের জন্য দেয়া মাংসের কাবাব। সিংগাপুরের তাড়াহুড়োয় কাবাবের কথা মনেই ছিলো না। পেটের বদলে কাবাবের স্থান হলো রাবিশ বিন। এর পর সেই নীল শার্ট পড়া কাস্টমস অফিসার তার সাথে আসতে বল্লেন। পাশে তাকিয়ে দেখই দাড়ি -টুপি পড়া একদল এরাবকে পাশের রুমে নেয়া হচ্ছে। আমি ভাবলাম  আমাকে বুঝি গ্রেপ্তার করা হচ্ছে। কি ঝামেলাই না অপেক্ষা করছে ভাগ্যে।
---------

স্মৃতিচারণ মাঝে মাঝেই খাপছাড়া লাগতে পারে। পরের ঘটনা আগে, আগের ঘটনা পড়ে চলে আসতেই পারে। স্মৃতি মাঝে মাঝেই বড্ড প্রতারন করে। এক সংগে আসতে চায় না।

সোমবার, ২৩ আগস্ট, ২০১০

আমার সাইটের পরিসংখ্যান ২০১০ ( আধেক )

কোন মন্তব্য নেই :
গুগল অ্যানালাইটিক্স লগ অনুযায়ী ২০১০ এর জানুয়ারি ১ থেকে  ৩০ পর্যন্ত ৬ মাসে আমার ব্লগ সাইটের ভিজিট তথ্য আপনাদের জন্যে তুলে ধরছি ।

  •  সব মিলিয়ে ১৭৭৮ টি ভিজিট হয়েছে যার মাঝে ১২১২ টি অনন্য ভিজিট এবং এগুলো এসেছে ২৮১৩ টি পেইজভিউয়ের বিপরীতে।
  • পাঠকদের মাঝে ৬৭.১০% হলেন নতুন পাঠক, ফিরে আসা হলেন ৩২.৯০%।
  • পাঠক গড়ে ১ মিনিট ৪৬ সেকেণ্ড সময় কাটিয়েছেন এবং প্রতি ভিজিটে ১.৫৮ টি পাতা পড়েছেন।
  • ৬টি মহাদেশের ৩৭ টি দেশের ১৬৪ টি শহর থেকে  পাঠকেরা গত ছয় মাসে আমার সাইটে পদধূলি দিয়েছেন।
  • ভিজিটের হিসেবে বাংলাদেশ, অস্ট্রেলিয়া এবং ভারত সবচেয়ে শীর্ষে আছে।
  • পাঠকদের শতকরা ৫৩.০৪ ভাগ গুগল থেকে খুঁজে পান, সরাসরি আসেন শতকরা ৩০.৩৭ ভাগ এবং রেফারিং সাইট থেকে আসেন শতকরা ১৫.০৭  ভাগ। বাকি ভিজিটর বিভিন্ন ব্লগ বা সাইট থেকে আসেন।
  • প্রথম পাঁচটি কিওয়ার্ড হলো সেক্সুয়াল, যৌনগল্প, সেক্সি মেয়ে, বাসর রাত,  বউ এর সাথে। এতে বোঝা যায় বাঙালি নেটে কি খোঁজে !
  •  বাউন্স রেট জঘন্য ৭৩.৩৪%

এবার গত ১ বছরের পরিসংখ্যান সংক্ষেপে দেই,

  • ২৭৭৩ টি ভিজিট
  • ৬৭৬৯ টি পেজভিউ
  • ১.৭৯ পেজ/ভিউ
  • বাউন্স রেট ৭১।৩৫%
  • ২.৫৫ মিনিট/ভিজিট

সাইটের জন্ম থেকে আজ পর্যন্ত !

  • ৭৩৯৩ ভিজিট
  • ১৩৮৬১ পেজ ভিউ
  • ১.৮৭ পেজ/ভিউ
  • ৪.০১ মিনিট/ভিজিট

 এবং ৬ মহাদেশের ৭৩ টি দেশের ৫১০ টি শহর থেকে পাঠক এসেছিলেন ৩ বছরে

নিজের ঢোল নিজেই অনেক পেটালাম। হিহিহি

---------------------------------------------------------------------------------------------------


মঙ্গলবার, ১৭ আগস্ট, ২০১০

সোমবার, ১৬ আগস্ট, ২০১০

ব্লাডি ফেয়ার ডিংকুম ৫

কোন মন্তব্য নেই :
ফেসবুকে এক ছোটভাইয়ের আমেরিকা যাত্রার মুহুর্তে অনুভূতি পড়ে নিজের কথা মনে পড়ে গেলো। সেই অর্ধযুগ আগের কথা, অথচ মাঝে মাঝে মনে হয় এইতো সেদিন।

বাসায় আম্মু অনেক কিছু রান্না করেছিলো। কিছুই খাওয়া হয়নি। আম্মু বার বার এটা সেটা এগিয়ে দিচ্ছিলেন, আমি চেস্টা করছিলাম কিন্তু কিছুই খেতে পারছিলাম না। সবাই ফোন করছিলো মোবাইলে - ল্যান্ড ফোনে,  শুভকামনা - শুভ যাত্রা জানিয়ে। অপেক্ষা করছিলাম প্রিয় মানুষ/গুলো ফোনের। এক মুহুর্তে কথা শেষ করেই কস্টের মাত্রা যেনো বেড়ে যাচ্ছিলো। জীবনের অনেকটা বছর হোস্টেলে থাকলেও কেনো যেনো বাসা ছেড়ে যাবার কস্ট টুকু কখনোই কাটিয়ে উঠতে পারিনি। এ এক অস্থির করা অনুভূতি।

বিমানে বসে মন প্রচন্ড খারাপ ছিলো। কখন যে বিমান সিংগাপুরে এসে পৌঁছেছিলো টেরই পাইনি। সময় মাঝে মাঝে খুব দ্রুত কেটে যায়। ট্টানজিট খুব কম সময়ের ছিলো। বলতে গেলে এক দৌড়ে এক বিমান থেকে আরেক বিমানে যাওয়া। ঢাকা থেকেই বোর্ডিং পাস নেয়া ছিলো, সেখানে দেয়া ছিলো গেট নাম্বার। প্রথমে ভেবেছিলাম গেট হয়তো কাছেই হবে। পরে দেখি সেটা প্রায় আধেক ঘন্টার দূরত্বে। এই হন্টন তো সেই দৌড়।

বিমানে উঠে দেখি এ যে আরো বিশাল বিমান। দু পাশে তিনটা করে সিট, মাঝে ৫ কি ৬ টা। আমার সিট পড়েছিলো ঠিক যেখানে খাবার দাবার রাখে সেই জায়গাটুকুতে।  খাবারের গন্ধটুকু বিরক্তকর ছিলো। কিছুক্ষন পরেই বিমান সিডনীর উদ্দেশ্য রওনা দিলো। খুব সকাল বেলা সূর্য যখন উঠি উঠি করছে তখন
‌আকাশে যখন বিমান বিশাল দুখানা পাখা মেলে উড়াল দিলো তখন মনে হচ্ছিলো বিমান কখন সিডনী পৌঁছুবে। কিভাবে কাটবে ৮ ঘন্টার দীর্ঘ সময় টুকু।  অনেকেই দেখছিলাম হেডফোন লাগিয়ে গান শোনার চেস্টা করছেন। আমার কিচ্ছুই ইচ্ছে হচ্ছিলো না।

আমার পাশের দু সিটে ছিলেন এক সুইস বয়স্ক কাপল। উনারা পৃথিবী ভ্রমনে বেড়িয়েছেন। ভদ্রলোক খুব ভালো ইংলিশ জানেন। অনেক আগ্রহ বাংলাদেশ সম্পর্কে। প্রথমে ভেবেছিলাম উনারা মনে হয় বাংলাদেশ চেনেনই না বা চিনলেও বন্যা - ঝড়ের দেশ হিসেবে চেনেন। এটা সেটা কত্ত যে আলাপ। ভদ্র মহিলা খুব কথা বলতেন। প্রথমে ভেবেছিলাম মনে হয় খুব মুডি মানুষ। দূপুরে খাবারের সময় যখন উনি উনার ডেজার্ট আমাকে এগিয়ে দিলেন তখন অবাক নয়নে উনার দিকে তাকাতেই উনি হেসে বল্লেন " মাই সান , ইটস ফর ইউ । উই অলসো হ্যাভ এ্যা গ্রান্ডসান লাইক ইউ এন্ড হি অলসো লাইকস ডেজার্ট এ লাট জাস্ট লাইক ইউ ‌"। আমি এখনো বুঝতে পারিনা উনি জানলেন কিভাবে যে আমি মিস্টি পছন্দ করি। পৃথিবীত মানুষের বাহিরের রঙ হয়তো ভিন্ন, ভিন্ন বিভিন্ন জিনিসে কিন্তু ভেতরে কোথায় যেনো একটা মিল রয়েছে।

শনিবার, ১৪ আগস্ট, ২০১০

তুমি ঠিকই ছিলা, সেই ভুল ছিলো

1 টি মন্তব্য :
তখন আমরা পুরান ঢাকার আগা মাসি লেন এ থাকি। বঙ্গ বাজার থেকে কাজি আলাউদ্দীন রোড ধরে নাজিরাবাজারের দিকে যাবার সময় হাজির বিরিয়ানীর ঠিক আগের 'গল্লিতে' থাকি আমরা। নিচে বাড়ি ওলার প্রিন্টিং প্রেস, উপরে আমরা।

বাসা থেকে বের হবার সময় কাজি আলাউদ্দিন রোড ধরে যখনই যাওয়া হতো তখনই রাস্তার ডানে সাজানো গোছানো একটা রিকশা দেখতাম। শুনেছি ঐ রিকশা নাকি শুধু আওয়ামী লিগের মিছিলে বা প্রচারনায় ব্যবহৃত হতো। ভয়ানক ইচ্ছে ছিলো সেই রিকশা মালিকের সাথে পরিচিত হবার। পাশের গলিতেই অন্ধকার ছোট্ট দু কামরার সেই বাসায় যাবার পর  দেখি বঙ্গবন্ধুর সাথে বাড়ির মালিকের ছবি। বঙ্গবন্ধুর অন্ধ ভক্ত সেই বৃদ্ধলোকটি আরো কতগুলো ছবি দেখালেন বঙ্গবন্ধুর। ইচ্ছে হচ্ছিলো ২/১ টি ছবি সড়িয়ে দেই। অন্য কোথাও সেই ছবি আর দেখিনি। দু কদম হাঁটলেই ছিলো খন্দকার মোশতাকের বাড়ী। খন্দকার মোশতাক কখনোই বাড়ীর থেকে বের হতো না। সে মারা যার পর আগা মাসিহ লেন মসজিদে তার জানাজাও করতে দেয়া হয়নি। মোশতাকের কথা জিজ্ঞেস করার পর উনি (লেখার মতো নয়) এক গালী দিয়ে বলেছিলেন " ................ " ।

অনেক বছর যাওয়া হয়নি দেশে। উনার সাথে দেখাতো দূর কা বাত। তবে ইচ্ছে আছে পরবর্তীতে দেশে গেলে দেখতে সেই লোকটি এখনো বেঁচে আছেন কি না। বেঁচে থাকলে এখনো কি সেই ছোট্ট অন্ধকার বাসায় আছেন ! এখনো কি সেই ছোট্ট ।‌ ব্যবসা করছেন  ! এখনো কি বঙ্গবন্ধুর অন্ধ ভক্ত আছেন ?

শত প্রলোভনেও এই লোকটি কিন্তু সেই সময় তার আদর্শ থেকে সরে আসেননি। শত চাপেও উনি ১৫ অগাস্টে বঙ্গবন্ধুকে স্বরন করেছেন, ৭ই মার্চেই সেই আগুন ঝড়া বক্তৃতা শুনিয়েছেন সবাইকে। জানতে ইচ্ছে করে এখনো কি উনি সেই রকমই আছেন না আর দশটা মানুষের মতোম লোভের স্রোতে গা ভাসিয়েছেন।

ইচ্ছে করেই লোকটির নাম বলছি না। যেখানে সেই লোকটি নিজের নাম কামাতে চান না সেখানে আমিই বা আগ বাড়িয়ে কেনো বলতে যাবো।

কে জানি বলেছিলো মানুষের বয়স হয়ে গেলে নাকি অহেতুক স্মৃতিচারন করে। এই পোস্টও অহেতুক স্মৃতিচারন। বিলকুল বয়স হয়ে যাবার লক্ষন।

শীরোনামের সাথে পোস্টের সম্পর্ক নাই। ইচ্ছে করেই এটা করা হয়েছে।

বুধবার, ৪ আগস্ট, ২০১০

ব্লাডি ফেয়ার ডিংকুম ৪

৪টি মন্তব্য :
ক্যাঙারুর দেশে আসার আগে আম্রিকা থেকে বেড়াতে আসা মামা তার বিখ্যাত কিশুরগইন্জা ডায়ালেক্টে জিজ্ঞেস করেছিলেন " কেমন লাগছে নতুন দেশ যাইতোছো ?" ।
'চ্যালেন্জিং', এক শব্দের উত্তর দিয়ে বলেছিলাম , হয়তো নতুন জীবন শুরু হবে।
আসলেই নতুন জীবন শুরু হয়েছিলো। প্রায় বন্ধু হীন , পুরো স্বজনহীন এক নতুন দেশ। যে জীবন এখনো চলছেই। মাঝে সাজে মনে হয় সব ছেড়ে ছুড়ে চলেই যাই দেশে। হয়তো চলেও যাবো হঠাৎ করেই; কোনো একদিন । কে জানে !

শর্ট হল বিমানে চড়া হলেও লং হলের বিমানে সেবারই ছিলো প্রথম বার। সিংগাপুর থেকে বিমানে উঠেই চোখ বড় হয়ে গিয়েছিলো। এত্ত বড় বিমান ! অনেকে হয়তো অবাক হতে পারনে আমার এরকম কথা শুনে, কিন্তু যে মানুষটি জীবনেও এত্ত বড় বিমানে চড়েনি সেতো অবাক হবেই।

ঢাকা বিমানবন্দরে কোনো সমস্যা হয়নি। সুটকেস ওজন করতে গিয়ে দেখি যে ওজন নেবার অনুমতি ছিলো তার চাইতে ২২ কেজি বেশী। তাড়াহুড়োয় এত ওজন হয়ে যাবে বুঝতেই পারিনি। কি আর করা, অনেক কিছুই ফেলে আসতে হয়েছিলো। খুব খারাপ লাগছিলো জিনিসগুলোর জন্য,  কিছুই করার ছিলো না। ইমিগ্রেশন কখনোই আমার জন্য সমস্যা নয়, সেবারই ছিলো না। পুলিশের ছেলে হলে আলাদা সুবিধা পাওয়া যায় যেই সুবিধার রঙিন চশমায় ইমিগ্রেশন পুলিশের হয়রানি চোখে পরে না।

বিমানে উঠবার পর শুরু হলো কখন বিমান ছাড়বে।

এর মাঝে একটি কথা ইচ্ছে করেই বলা হয়নি। ঢাকা থেকে উঠা আমিই ছিলাম শেষ যাত্রি। অতিরিক্ত মাল বাদ দিয়ে স্যুটকেস গুছিয়ে - সব কিছু ওজন শেষ করে বোর্ডিং পাস নিয়ে ইমিগ্রেশন যখন শেষ করছি তখন আমার নাম ধরে ডাকা হচ্ছে যাতে আমি বিমানে উঠি, সবাই আমার জন্য অপেক্ষা করছে। বিমানে উঠেই দেখি সবাই আমার দিকে বিরক্ত দৃস্টিতে তাকিয়ে আছে। সেবার আমার জন্য ৫ মিনিট দেরী করেছিলো সিংগাপুর এয়ারলাইন্স।

রানওয়েতে বিমান যখন ছুটছিলো তখন মনে হচ্ছিলো এত্ত জোরে না ছুটলেই কি নয়। যখন বিমান মাটি ছেড়ে আকাশে উড়াল দিলো তখন মনে হচ্ছিলো শেকড় তীব্র কস্টের সাথে ছিড়ে যাচ্ছে। শেকড় ছেঁড়ার কস্ট বড্ড কস্টের। সিটের সামনের ছোট্ট স্ক্রিনে যখন দেখলাম  দেশের সীমানা পের হয়েছি তখন খুব কস্ট লাগছিলো, হয়তো চোখে কিছু পানিও জমেছিলো।

সোমবার, ২ আগস্ট, ২০১০

২ - ফেসবুক নামা

1 টি মন্তব্য :
ফেসবুকে প্রাইভেসী নিয়ে অনেকের চরম অসর্তকতা আবার অনেকের অতি সতর্কতা বেশ লক্ষ্যনীয় । কেউ কেউ হয়তো এমন সতর্ক যে নিজের দেয়াল টুকুও দেখাতে চান না। হয়তো বন্ধু তালিকা বা ব্যক্তিগত তথ্য যা সবার সাথে শেয়ার করা যাচ্ছে না তা লুকিয়ে রাখা যায় কিন্ত দেয়াল ঢেকে রেখে বন্ধু হবার আমন্ত্রন জানানো যেনো সেই সারস পাখি আর  দুস্ট শেয়ালের পাল্টা পাল্টি দাওয়াতের কথা মনে করিয়ে দেয় । ছবি নিয়ে সতর্কতা অবশ্যই বুদ্ধিমানের কাজ, আজে বাজে লোক বা ভদ্রতার মুখোশ পড়া অনেকেই ফেসবুকে ঘুরে বেরুচ্ছে। হয়তো কারো এলবামের ছবি  চুরি করে বাজে চিন্তা করছে। যা কিছু সবার সাথে শেয়ার করা যায় না তা একান্তই নিজের কাছে রেখে দিয়ে সবার কাছে খোলামেলা থাকাই  সুবিবেচনার লক্ষন বলে মনে করি।

ব্যক্তিগত ভাবে আমি প্রাইভেসী নিয়ে সচেতন। যা কিছু একান্তই আমার তা লুকিয়ে রাখি সযতনে। বন্ধুদের সাথে যা কিছু শেয়ার করা শোভন তা ‌উদার হস্তে শেয়ার করি। যাদের চিনি না তাদের বন্ধু তালিকায় যোগ করি না। প্রাইভেসী সেটিংকে এমন ভাবে রাখতে পছন্দ করি যাতে কোনোভাবেই তা বন্ধুদের বিরক্তের কারন না হয়ে দাঁড়ায়।

ফেসবুকে ঘুরে ঘুরে প্রাইভেসী সেটিংস নিয়ে অনেকের অসতর্কতা দেখে খারাপ লাগে। বিশেষ করে অনেক মেয়ে যারা প্রাইভেসী সেটিংস এর ধারে কাছেও যায়নি। যে কেউ ইচ্ছে করলে তার মোবাইল নাম্বার থেকে শুরু করে একান্ত ব্যক্তিগত বা পারিবারিক ছবি চুরি করতে পারে। প্রচুর নোংরা মানুষ আছে যারা এর অসৎ ব্যবহার করে ও করছে। এব করার জন্য কারো ফেইসবুক হ্যাক করার প্রয়োজন হয় না। 



শনিবার, ৩১ জুলাই, ২০১০

১ - ফেসবুক নামা

২টি মন্তব্য :
নতুন যেকোনো কিছুতেই আমার চরম আগ্রহ। সেটা বাজারে আসা নতুন কোনো ইলেকট্টনিক গ্যাজেট হোক আর নতুন বালিকা বন্ধুই হোক ( শেষেরটা হবার সম্ভাবনা আপাতত নাই, বিবাহিত মানুষরা একবারই মারা যায় )। তবে আসক্তি আসে না কোনোটাতেই।

অনেক কাল আগে হাই ফাইভ এ হালকার উপরে ঝাপসা ভাবে ছিলাম। দেশের শম্ভুক গতির ইন্টারনেটে যেখানে একটা সাধারন মেইল চেক করতেই খবর হয়ে যেতো সেখানে হাই ফাইভ ব্যবহার করতে গিয়ে মাঝে সাজে খবর হয়ে যেতো। অনেক সময়তো এমন হতো যে গোসল সেরে এসে দেখি পেজ আধেক খুলেছে।  তখনো বাজারে ফেসবুক আসে নাই।  ক্যাঙারুর দেশে আসবার পর জীবন বাঁচাতেই এতো ব্যস্ত ছিলাম যে কোথায় অর্কুট আর কোথায় মাই স্পেস আর কোথায় বা সেই হাই ফাইভ। নিজে বাঁচলে হাই ফাইভের নাম।

 

মেইল বক্সে ফেসবুকে বন্ধু হবার আমন্ত্রন পাওয়া শুরু করাতেই ফেসবুকের নাম জানা হলো। যোগও দিলাম কোনো এক ফাঁকে। তবে প্রথম থেকেই অচেনা কাউকে বন্ধু হিসেবে যোগ করতে চরম অনীহা ছিলো ও এখনো আছে। যাদের পছন্দ করি না তাদের যোগও করি না। নিজে বন্ধুবৎসল তবে পকেট উজার করা সেই বেকুব প্রেমিকের মতো উজার করা বন্ধুবৎসল নই। এজন্যই মনে হয় বন্ধু সংখ্যা এখনো ২০০ তে উঠা নামা করে। তবে স্কুল-কলেজে-বিশ্ব বিদ্যালয়ের বন্ধুদের চোখ বন্ধ করে যোগ করি। ফেসবুকের কল্যানে ১৫/১৬ বছর পর সব বন্ধুদের সাথে যোগাযোগ হচ্ছে। কারো ভূঁড়ি গজিয়েছে, কারো ঝাঁখরা চুলের বদলে টেকো মাথা, কেউ বা ২/৩ টা ছেলে মেয়ের বাপ আবার কেউবা এখনো বিয়েথা না করে  প্রেম করে বেরুচ্ছে। আজ যেমন ফেসবুকে দেখলাম আমার এক বন্ধুর মেয়ে হয়েছে। ফেসবুক না থাকলে হয়তো জানাই হতো না।

ব্লগে লেখালেখি করার সুবাদে অনেক সাথেই পরিচয় হয়েছে, পরিচয় থেকে খাতির। এদের সাথেই অনেকটুকু সময় কাটে ফেসবুকে । ২০০৬ এর শেষ থেকে আমার দ্বিতীয় জীবন হয়ে ওঠে ব্লগ বন্ধুরা। টের পাই - ফেসবুক ভালো লাগতে শুরু করেছে, সবার সাথে যোগাযোগ রাখা যায়, ছবি দেখা যায়, লিংক শেয়ার করা যায়, অন্যের শেয়ার করা লিংক দেখা যায়। স্ট্যাটাসে কার মন খারাপ, কার ছেলে হয়েছে কিংবা ডাল রাঁধতে গিয়ে পুড়িয়ে ফেলেছে করছে সেইসবও দেখি, লিখি মন্তব্য।

কিছু দিন আগে চাচা শশুড়কে ফেসবুকে বন্ধু হবার আমন্ত্রন জানিয়েছিলাম, উনি আমার বন্ধু হবার আগ্রহ প্রকাশ করেননি। আমার শশুড় সাহেব নতুন ইমেইল খুলেছেন। হয়তো শীঘ্রই ফেসবুকেও
যোগ দিবেন। উনি কি আমাকে বন্ধু হিসেবে যোগ করবার আমন্ত্রন জানাবেন ? কে জানে। ঘোর কলিকাল, দু্গ্গা দুগ্গা।

চলবে ?

দেখা যাক .....................

মঙ্গলবার, ২৭ জুলাই, ২০১০

হাবিজাবি ৮

কোন মন্তব্য নেই :
আজকাল ব্লগ লেখার সময় হয় না। দারুন  ‌ব্যস্ততা। সকাল পেড়িয়ে কখন যে সন্ধ্যে হয়ে যায় টেরই পাই না। রাতে ঘুমোনোর আগে পরের দিনের প্রস্তুতি নিতে নিতে মনে হয় কখন যে একটু ফুসরত  মিলবে। একসময় কত্ত কাজ খুঁজেছি হন্যে হয়ে, এর ওর কাছে সামান্য একটা কাজের জন্য অনুরোধ করেও অনেক অনেক বার হতাশ হতে হয়েছে । আর এখন ? কাজ আমায় খুঁজে। মাঝে মাঝে খুব কস্ট হয় তবুও কাজ করে যেতে হয় জীবন বাঁচাতেই। আগামি বছর নতুন চাকরি শুরু হবে। কেমন হবে সেটা ? আরো কস্টের নাকি আরো মজার !?

অনেক ঠান্ডা। তবে বেশির ভাগ সময়ে হিটারের আশে পাশে থাকায় বা কাজে ব্যস্ত থাকায় টের পাওয়া হয় না কখন মাইনাস ৩ হলো বা কখন মাইনাস ২ হলো। দিনের বেলা গরম লাগাতে মনে হচ্ছে  বসন্তকুমার হাঁটি হাঁটি পায়ে এগিয়ে আসছে। অস্ট্রেলিয়ার  বসন্ত দারুন উপভোগ করি। চারিদিকে নতুন জীবনের উচ্ছাস।

ছেলের বয়স দেখতে দেখতে ২ বছর হতে চল্লো। এ দেশে যখন এসেছিলাম তখন ছিলাম একলা, একসময়ে তা দোকলা হয়ে তেকলা হয়ে গেলো। আরেকজন আসছে আগামি বছর ! বাহ, জীবনটা কত্ত সুন্দর। ভাবতেই অপার্থিব শান্তি লাগে।

সেদিন বেশ মজার একটা ঘটনা হয়েছিলো। ছেলেকে নিয়ে কাছের পার্কে। সপ্তাহ শেষের দিন বলে এই ঠান্ডাতেও অনেকে এসেছিলো বাচ্চা কাচ্চা দের নিয়ে। পার্কে নিয়ে যেতেই দিব্যের সে এক দৌড়। এক সময় দেখি এক ছোট্ট মেয়ের সাথে দারুন খাতির। কাছেই দাঁড়িয়ে ছিলাম। এক সময় দেখি আমার ছেলে ওই ছোট্ট মেয়েটিকে চুমু দিচ্ছে। এটা দেখে সেই মেয়ের মা আর আমার বউ এর সেকি হাসি। বাসায় আসবার পর বউ বলে, ছেলে নাকি বাপের অভ্যাস পেয়েছে। যেমন বাবা তেমন ছেলে। আমি যতই বোঝাই ওর বাবা ওই বয়সে আর যাই করুক পার্কে গিয়ে কোনো মেয়েকে চুমু খায়নি বউ সেটা বিশ্বাসই করতে চায় না ! দারুন সমস্যায় আছি :(

বুধবার, ৯ জুন, ২০১০

এই সব দিনরাত্রি

কোন মন্তব্য নেই :
অনেক কাল আগে পোস্টের শিরোনামের সাথে মিল রেখে একটা ধারাবাহিক নাটক হতো বিটিভিতে। আসলে সেই ধারাবাহিকের নামটা এতো পছন্দ যে অনেক সময় নিত্যনৈমিত্তিক কথাবার্তাতেও 'এই সব দিনরাত্রি' ব্যবহার করি। আজ পোস্টের শিরোনামেও ব্যবহার করলাম।

ঠান্ডা লেগেছে। এসময়ে ভাইরাসের উৎপাত বড্ড বেড়ে যায়। ভাগ্যিস জ্বর তেমন নাই। বাসার সবার একই অবস্থা। ঘুম আসছে না বলে এই সাত সকালে ( সকাল ৩:৪৪ ) তেও প্যাঁচার মতো চোখ বড় বড় করে জেগে আছি। শরীর খারাপের সাথে যুক্ত হয়েছে অনিদ্রা।

আজ The Motorcycle Diaries মুভিটা দেখলাম। সিনেমা বোদ্ধা হবার ক্ষমতা বা যোগ্যতা না থাকায় সেটা নিয়ে রিভিউ লেখার ঔধ্যত্ব দেখাচ্ছি না। একজন বিপ্লবীর জন্ম দেখলাম।  মুভিতে "চে" এর জীবনকে সেভাবে ফুটিয়ে তোলার চেস্টা না করা হলেও দুই বন্ধুর ভ্রমনে বের হওয়া, জীবনকে খুব কাছ থেকে দেখা - বোঝা, নিজেকে আবিস্কার করার মাধ্যমে নতুন মানুষের জন্মকে দেখলাম।
 

হেলেন থমাসের নাম জানতাম না। আজকে দেখলাম ইজরায়েলকে নিয়ে মন্তব্য করার কারনে তাকে অবসর নিতে ( বাধ্য  করা হয়েছে পড়ুন ) হয়েছে। পশ্চিমের স্ববিরোধী আচরন দেখে আজকাল আর অবাক হই না।
When u attack Black people, they call it racism.
When u attack Jewish people, they call it antisemitism.
When u attack women, they call it sexism.
When u attack homosexuality, they call it intolerance.
When u attack a religious sect, they call it hate.
But when u ...attack ...the Prophet ...(SAWS)....... They call it freedom of speech!
what a joke.[courtesy: A.N.M. Mominul Islam Mukut's Facebook status]

অ্যামনেস্টির জানিয়েছে " ইয়েমেনে মার্কিন হামলায় গুচ্ছ বোমা ব্যবহূত হয়েছে" ।  যদি এমনটি হতো "আমেরিকায় ইয়েমিনি হামলায় গুচ্ছ বোমা ব্যবহৃত হয়েছে " তাহলে কি ঘটতো সেটা একবার চিন্তা করলে কেমন লাগে বলুনতো ?

অনেক শীত পড়েছে ক্যানবেরায়। হিটারেও মাঝে সাজে কাজ হয় না মনে হয়। বাসার চারপাশে ঝড়াপাতা উড়ে বেড়ায়। গাছগুলো সব নেড়া। দেশে থাকতে শীতের পিঠা খাবার ধুম পরে যেতো। এদেশে সেটা স্বপনে বা কল্পনায় সারতে হয়। শালার বিদেশ।

মঙ্গলবার, ৮ জুন, ২০১০

ব্লাডি ফেয়ার ডিংকুম ৩

কোন মন্তব্য নেই :
সিংগাপুর এয়ারলাইন্সের টিকিট কতো পড়েছিলো সেটা মনে নেই। খুব সম্ভবত ১১০০/১২০০ ডলার পড়েছিলো। আমার এক কাজিনের ট্রাভেল এজেন্সি থেকে কেনাতে এই লাভটুকুই হয়েছিলো যে সাধারনত যতটুকু ওজনের লাগেজ নেয়া যায় তার চাইতে ১৫ কেজি নিতে পেরেছিলাম। টিকিট কেনার পর যখন টাকা দেই ওদের তখন ভয়ে ছিলাম এই বুঝি কোনো জাল টাকা ধরা পরে। তখন জাল টাকা এতো ধরা পড়তো যে পারলে পানের দোকানদারও জাল টাকা ধরবার যন্ত্র বসায় টঙে। তখন ১ ডলারে ৪০-৪২ টাকা পাওয়া যেতো এখন যা ৬০-৬৪ এ ওঠা নামা করে।

নিজে নিজে ভিসা প্রসেস করা যায় তবে অনেক সময় ঝামেলা এড়াতে ও সময় বাঁচাতে অনেকেই ভিসা এজেন্টের সাহায্য নেন, যেমনটি আমি নিয়েছিলাম, কারন ওদের কাছ সবকিছু ছেড়ে দিয়ে টেনশন ফ্রি থাকা যায়। অবশ্য অনেকেই পত্রিকায় রঙবেরঙ এর এড দেয়া ও ১০০% "গ্যারান্টি" দেয়া এজেন্সির কাছ যান এবং টাকা- সময় দুটোই খোয়ান। বুঝতে পারি না এই উন্মুক্ত তথ্য যুগে এসেও কেনো অনেকে প্রতারিত হোন। অথচ নেটে বা অন্য ভাবে একটু সময় ব্যয় করে সেই সব এজেন্সি গুলো সম্পর্কে খোঁজ নিলে বা সরাসুরি বিশ্ববিদ্যালয়/কলেজের সাথে যোগাযোগ করলেই প্রতারিত হবার সম্ভাবনা অনেকাংশেই কমে যায়। দরকার শুধু সচেতনতা ও স্বাভাবিক যুক্তি প্রয়োগ। অথচ এসব ক্ষেত্রে যারা প্রতারিত হোন তাদের বেশীরভাগই লেখাপড়া জানা মানুষ। কিছু দিন আগে টিভিতে এরকম একটা রিপোর্ট দেখছিলাম যেখানে ১০/১২ লাখ টাকা খোয়ানো এক পিতার কাঁদছিলেন  যিনি বিশ্বাস করে এক এজেন্টকে টাকা দিয়েছিলেন  নিউজিল্যান্ড এ তার ছেলের ভর্তির ব্যপারে। ভদ্রলোকের কান্নায় মন খারাপ হলেও অবাক হচ্ছিলাম কি যুক্তিতে উনি সে টাকা দিয়েছিলেন !!  অথচ ভালো এজেন্সি দেশে বেশ কটি আছে।



শনিবার, ৫ জুন, ২০১০

মধ্য রাতের ফোনের অপেক্ষায়

1 টি মন্তব্য :
বিদেশে আসার পর মাঝ রাতে ঘুমের মাঝে দুটো ফোনকল ভুলতে চাইলেও ভুলতে পারি না। দুটোই মৃত্যু সংবাদ। খুবই কাছের দুজন মানুষ। ফোন দুটো পেয়ে তব্দা লেগে গিয়েছিলো কিছুক্ষনের জন্য। ইচ্ছে হচ্ছিলো ..............
এখন মধ্যরাতে ফোন পেলেই  আতংকে থাকি। এই বুঝি কোনো মৃত্যসংবাদ এলো।


নিমতলী - কায়েৎটুলির মাঝ দিয়ে অনেকবারই  হাঁটা হয়েছে। সেদিন সকালে ঘুম থেকে উঠে প্রথম আলোর সাইট খুলতেই দেখি আগুনের সংবাদ। একে একে মারা যাচ্ছে মানুষ। ১১৭ জন আগুনে পোড়া মানুষ। সংখা বাড়ছে নিশ্চিৎ ভাবে। কবর খোড়া হচ্ছে আজিমপুরে। পত্রিকার পাতায় ছাপা হিউম্যান স্টোরি পড়ে মন এতো খারাপ হয়ে যাচ্ছে যে .......... বেগুনবাড়ীর দালান ধসে ২৫ জনের মৃত্যুর পর এবার ১১৭ জন। এ যেনো মৃত্যুর কাফেলা। 


বৃহস্পতিবার, ৩ জুন, ২০১০

ব্লাডি ফেয়ার ডিংকুম ২

1 টি মন্তব্য :
স্মৃতি বড্ড প্রতারনা করছে। অনেক কিছুই ঝাপসা হয়ে আসছে। ভেবেছিলাম খুঁটিনাটি লেখবো, অথচ এখন দেখা যাচ্ছে অনেক কিছুই মনে আসছে না।

চলে আসার আগে নানা রকম প্রস্তুতি। একরকম তাড়াহুড়ো করেই চলে আসা হয়েছিলো। ক্লাস শুরু হবার তাড়া থাকাতে ইচ্ছে থাকা সত্বেও অনেক কিছুই করা হয়নি।

দেশে থাকতে যেখানেই কোনো আবেদন করতে হতো বা যেকোনো কাজেই ছবি লাগতো কথায় কথায়। ভেবেছিলাম এদেশে এসেও হয়তো অনেক ছবি লাগবে তাই একগাদা পাসপোর্ট সাইজের ছবি প্রিন্ট  করে এনেছিলাম, সবগুলো ছবিই যে খামে এনেছিলাম সেই খামেই রয়ে গিয়েছে। মাঝে মাঝে সেই একযুগ আগের গালফুলো ছবিগুলো দেখলে বেশ মজা লাগে। বয়স যে বেড়েছে সেটা ভালোভাবেই বোঝা যায়। মাথায় চুল কমেছে, অভিগ্যতা বেড়েছে।

দেশের বাহিরে যাওয়া প্রথমবারের মতো না হলেও যেহেতু অনেক দিনের জন্য আসা হবে সেহেতু অনেক কিছু কেনা কাটাও করেছিলাম যার অনেক কিছুই কাজে লাগেনি আদৌ। যেমন, বন্ধুরা বলেছিলো রেস্টুরেন্টে ওয়েটারের কাজ করতে হলে নাকি সাদা শার্ট আর কালো ‌প্যান্ট লাগবে। ৩ সেট বানিয়েছিলাম। রেস্টুরেন্টে কাজও করা হয়নি সেগুলো পড়াও হয়নি। শেষমেশ সেগুলো স্যালভেশন আর্মিকে দেয়া হয়েছিলো।

এমন ভাবে কেনা কাটা করেছিলাম যাতে প্রথম বছরের তেমন কিছু কিনতে না হয়। অস্ট্রেলিয়া এসে আবিস্কার করলাম এতো কিছু কেনার কোনো দরকারই ছিলো না। অহেতুক কিছু টাকা জলে গিয়েছিলো। ছবি বা সাদা শার্টের কথাতো আগেই বলেছি। তবে যারা বিদেশে অনেক দিনের মতো আসছেন আমার মতো তাদের জন্য একটা টিপস আমার, " অন্তত এমন সব জিনিস কিনে আনুন দেশ থেকে যা বিদেশে এসে প্রথম বছরের ধাক্কা সামলাতে সাহায্য করবে"।

দেশ থেকে বিদেশে টাকা পাঠানো বিশাল এক হ্যাপা। ভর্তি কনফার্ম করবার জন্য ১ সেমিস্টারের টাকা পাঠাতে হয়। সেজন্য দেশের ব্যাংকে স্টুডেন্ট ফাইল খুলতে হয়। পরিচিত লোক থাকায় ঝামেলা খুব একটা হয়নি। কিন্তু এ কাজটির জন্য ২ টা দিন লাগিয়ে এখানে ওখানে দৌড়াদৌড়ি করে কাগজ যোগার করা, এই কাগজের ফটোকপি লাগবে বলার সাথে সাথে তা নিয়ে আসা জাতীয় কাজ করে এক সময় মনে হয়েছিলো পরিচিত লোক না থাকলে কি যে হতো।
একসময় টিউশন ফির টাকা টিটি করে আর স্টুডেন্ট ফাইল খুলে মনে হয়েছিলো বিশাল এক যুদ্ধ জয় করেছি। জনতা ব্যাংকের কাছে কৃতগ্যতা এজন্য। অনেকেই যখন বিদেশী ব্যাংকে ফাইল খুলতে গিয়ে ৫/৬ হাজার টাকা ব্যায় করেছিলো সেখানে আমি মাত্র ৮/৯ শ টাকাতেই কাজ সারতে পেরেছিলাম কোনোরকম "চা-পানির" খরচ ছাড়াই।

হাইকমিশন থেকে পাসপোর্টে ভিসা স্ট্যাম্প লাগানোর পর শুরু হলো বিমানের টিকিট কেনার পালা। সবাই বলেছিলো সিংগাপুর এয়ারলাইন্স নাকি অস্ট্রেলিয়া আসার জন্য ভালো। ভাড়া কম - সার্ভিস ভালো - ট্রানজিট কম। এবার টিকিট কেনবার পালা।

বৃহস্পতিবার, ২০ মে, ২০১০

নীতিমালা ভাঙার পোস্ট

কোন মন্তব্য নেই :
মধ্যযুগের কোনো এক সময় আমার এক চাকমা বন্ধু 'ছিলো'। ছিলো বলার অনেক কারন আছে। সেটা না হয় অন্য একদিন বলা যাবে।

নামের শেষ অংশে চাকমা থাকায় তাকে চাকমা বল্লাম। অনেক হয়তো নাক উঁচু করে বলতে পারেন আদিবাসী বা পাহাড়ি কেনো বল্লাম না ! নামে কি এসে যায় বাহে? আমি বাঙালি , ও চাকমা। খেল খতম।

সময়টা নব্বইয়ের দশক। পাহাড়ে শান্তি বাহিনী আছে, আর্মিও আছে। তখনো নিষিদ্ধ বস্তুর মতো সংবাদপত্র গুলোতে সতর্কতার সাথে পাহাড় সম্পর্কিত খবর গুলো এড়িয়ে যাওয়া হয়। তার মাঝেও লোগাং ম্যাসাকারের মতো খবর চলে আসে কানে। শান্তিবাহিনী ৯ বাঙালি কাঠুরেকে নৃশংষ ভাবে হত্যা করেছে জাতীয় খবর যেভাবে প্রথম পাতায় চলে আসে তেমনভাবে অবশ্য বাঙালি সেটেলারদের দ্বারা হত্যার ছবি কখনোই আসে না। পাহাড়ি ছাত্র পরিষদের ব্যনারে পাহাড়িদের মিছিলও পত্রিকার শেষ পাতায় ' দয়া ' করে ছাপা হয়।

পাহাড় কেনার স্বপ্ন আমার ছোট বেলা থেকেই। আমার সেই চাকমা বন্ধুকে এই স্বপ্নের কথা বলতেই সে তেলে বেগুনে জ্বলে উঠে। বলে কি ' ওর ভিটা বাড়ী দখল করে নাকি আমার স্বপ্নের পাহাড়ে বাংলো বানাবো ' ! আমি পাহাড়ের ছবি দেখাই, রাঙামাটির সেই তথাকথিত ঝুলন্ত ব্রীজ দেখাই, কাপ্তাই লেক দেখাই। ও বলে কাপ্তাইয়ের লেকের নিচে ওর নাড়ি পোতা। আমি অবহেলা ভরা হাসি দেই। আমি হাস্যজ্বল পাহাড়ি নারীর ছবি দেখিয়ে প্রেমের কথা বলি, ওর চোখ জ্বল জ্বল করে উঠে ক্ষোভে। আমি আমাদের দেশপ্রেমিক মেধাবী ও সাহসী সেনাবাহিনীর কথা বলি, ওর চোখে ঘৃনা দেখতে পাই। আমি পাহাড়ে শান্তির কথা বলি, ও বলে সীমান্তের ওপারে রিফিউজি ক্যাম্পে আটকে থাকা পিসিমার কথা। আমি বিশ্বাষ করি না, ওর চোখে পানি জমতে দেখি। ও কখনোই বলেনি ওর কাকা কিভাবে মারা গিয়েছিলো শুভলং পাহাড়ে, ও কখনোই বলে নাই কি হয়েছিলো সেই রাতে ওর কাকি মার। আমরা জানি সবকিছুই, কিন্তু ভাব করি যেনো কিছুই জানি না।

একদিন জিগেস করি সব কিছু। ও বলতে চায় না। চাপাচাপি করতে চাই নাই। আবারো জিগেস করি। ওর মুখে আগুন দেখতে পাই। হতাশা - ক্ষোভ - প্রতিহিংসা - ঘৃনায় মেশানো অন্য এক আগুন। এক সময় মুখ শক্ত করে বলে " সব বাঙালি মায়রে খানকির পোলাদের মায়রে চুদি" ।

------
এ লেখার উদ্দেশ্য কিছু না । হয়তো অন্য কোথাও পড়া কোনো লেখা থেকে কোনো কিছু লেখার অনুপ্রেরনা। এটাকে সিরিয়াসলী নেয়ার কিছু নাই। যে বন্ধুর কথা বল্লাম তার নাম যুক্তিসংগত কারনেই বলা যাবে না। এক সময় শান্তিবাহিনীর উঁচু স্তরের এক নেতা ছিলেন। গল্পাচ্ছলে বলা হলেও এর সত্যতা ১০০%।
সুম্মা আমিন।

শনিবার, ১৫ মে, ২০১০

আসুন গনতন্ত্র শিখি

কোন মন্তব্য নেই :

ভিডিও ঋণ: উইকিলিকস (http://www.wikileaks.com)

গ ন ত ন্ত্র
মানবতা
মুক্তি

আসুন এদের কাছ থেকে গনতন্ত্র শিখি
মানবতা শিখি
শিখি কি সুন্দর ও দক্ষ ভাবে মানুষ হত্যা করা যায়
কি নিপূনভাবে ঠান্ডা মাথায় হাসতে হাসতে ....................

আমি আমার খাতা খুল্লাম
শিখতে চাই

বুধবার, ১২ মে, ২০১০

ব্লাডি ফেয়ার ডিংকুম ১

1 টি মন্তব্য :
শুরুর গল্প

দেখতে দেখতে ৬ বছর হয়ে গেলো এদেশে। অনেক গল্প, অনেক স্মৃতি। । অর্ধযুগ পেড়িয়ে সেই সব ছোট ছোট গল্পকে সূতোয় গাঁথবার জন্য অনেক দিন ধরেই ভাবছিলাম। সময়ের সাথে অনেক স্মৃতিই ঝাপসা হয়ে যাচ্ছে। কিছু গল্প না বলা গল্প হয়ে যাচ্ছে। অনেক ব্যর্থতা , অনেক সফলতা।  হয়তো অনেক কিছুই বলা হবে, হয়তো অনেক কিছুই না বলা রয়ে যাবে। একান্তই ব্যক্তিগত ও স্পর্শকাতর কিছু ঘটনা ও বিষয় ছাড়া হয়তো অনেক কিছুই লেখা হবে।


প্রস্তুতিপর্ব

অস্ট্রেলিয়ায় পড়তে আসবো এরকম একটা ইচ্ছা প্রথম থেকেই ছিলো। পৃথিবীতে আরো দেশ থাকতে অস্ট্রেলিয়াকে কেনো পছন্দ করেছিলাম তা মনে নেই। সে কারনেই মনে হয় অন্য কোনো দেশের জন্য চেস্টাও করা হয়নি।

দেশে আন্ডারগ্র্যাড শেষ করেই ধীরে ধীরে প্রস্তুতি নিচ্ছিলাম। এখানে সেখানে ভর্তির আবেদন করা। রিসার্চ ওয়ার্কের চাইতে কোর্স ওয়ার্ককে বেছে নিয়েছিলাম প্রথম থেকেই। হয়তো সরাসুরী নিজ পেশাতে ঢুকে যাবার ইচ্ছে থেকেই। অস্ট্রেলিয়ায় বিচিত্র কারনে ইন্টারন্যাশলাল স্টুডেন্টদের জন্য স্কলারশীপ খুব কম। স্কলারশীপ বা গ্র্যান্টের চেস্টা করেও তেমন লাভ হয়নি।  যেগুলো আছে সেগুলোর জন্য চেস্টা করতে সময়ের অভাবও ছিলো। নিজ যোগ্যতা নিয়ে সংশয়ই ভুগেছি বলেই মনে হয় চেস্টাতেও অনেক গাফলতী ছিলো। শেষ মেশ নিজের টাকায় পড়তে চলে আসা।

অস্ট্রেলিার ভিসা পাবার খবর পাই ২৫শে জানুয়ারী ২০০৪। ভিসা নেয়া হয় ১৫ জানুয়ারী। বিমান যখন মাটি ছেড়ে আকাশে উড়বার প্রস্তুতি নেয় সেই দিনটি ছিলো ১৩ই ফেব্রুয়ারী ২০০৪, সময় সকাল ১ টা। অস্ট্রেলিয়া পৌঁছি সন্ধ্যে ৭ টা, ১৩ ফেব্রুয়ারী ২০০৪।

জীবনের আরেকটি অধ্যায় শুরু হলো।

মঙ্গলবার, ১১ মে, ২০১০

"মা" তোমায় ভালোবাসতে দিবস লাগে না

কোন মন্তব্য নেই :
"মা" তোমায় ভালোবাসতে দিবস লাগে না।
হয়তো ফোন করা হয়নি ঘটা করে,
হয়তো কার্ড পাঠানো হয়নি,
কিছুই করা হয়নি,
কিছুই বলা হয়নি,
তারপরো তারপরো
"মা" তোমায় ভালোবাসতে দিবস লাগে না।।

২ বছর ১০ মাস ৪ দিন। মাকে দেখি না।
দেশ দেখি না।
৫৫৯৯ মাইল
৯০১১ কিলোমিটার
ইচ্ছে হয়, স্বপ্ন দেখি।
 

 "মা" তোমায় ভালোবাসতে দিবস লাগে না।।

দেশ বদলালে দিবসও বদলায় সেটা জানা ছিলো না। এ জীবনের কতো কিছুই যে জানার বাকি। উইকি ঘাঁটতে গিয়ে দেখি একেক দেশে একেক দিনে মা দিবস। তবে বেশীর ভাগ দেশেই দেখলাম মে মাসের দ্বিতীয় রোববার মা দিবস পালন করা হয়।

সুবোধ সরকারের লেখা কবিতাটা পড়লাম। ভালো লাগলো বলে নিজ ব্লগে টুকে রাখলাম।

বৃদ্ধাবাস থেকে -সুবোধ সরকার

বত্রিশ বছর আগে একবার আমার ঠোটে
একজন আমাকে চুম্বন করেছিল
এবং
আরো বত্রিশ বছর আগে
আমার প্রথম জন্মদিনে ঠিক একই জায়গায়
তিলের পাশে আমার বাবা
চুম্বন করেছিলেন।

আমার এখন ৬৫, ছেলে আমেরিকা
মেয়ে মাসে একবার দেখা করে যায়
১৩ নম্বর ঘরে।

মাত্র দুটো চুম্বন। দুটোই দারুণ।
আমি প্রতিদিন কাগজ পড়ি। খোঁজ রাখি পৃথিবীর।
আর অপেক্ষা করি ছেলে আমেরিকা থেকে
ঝাড় খেয়ে ফিরে এসে আমাকে জড়িয়ে ধরবে
জড়িয়ে ধরে ঘুমিয়ে পড়বে।

হ্যাঁ, আমি মা, খোকন রে আমি এখনও তোর মা।

শনিবার, ৮ মে, ২০১০

আমার বোনটা ভালোই আছে, আপনার বোনটি ভালো আছে তো?

কোন মন্তব্য নেই :
পয়লা বৈশাখের " গ্যান্জামের " খবর শুনেই সাথে সাথে ছোট বোনটাকে ফোন করে যখন শুনেছি ও ভালোই আছে তখন অন্য রকম শান্তি লেগেছিলো। ছোট বোনটি অবশ্য তখনো জানতো না কি ঘটেছিলো সেই "গ্যান্জামে"। বড় ভাই হয়ে ওকে বলতেও পারি নাই কি হয়েছিলো সেই কনসার্টে। পরে হয়তো ও জেনেছিলো। আমার ভীতু বোনটি এতসব জানবার পর আর কোনোদিন পয়লা বৈশাখের উৎসবে যাবে কি না সেটা নিয়ে বেশ সন্দেহ আছে আমার।

পরের দিন পত্রিকা বের হয়নি। যেদিন পত্রিকা বের হলো সেদিন যত গুলো পত্রিকা পড়া সম্ভব সবগুলোতেই খুঁজে খুঁজে বের করার চেস্টা করেছি আসলেই কি হয়েছিলো সেই (দূ)ঘটনায়। একদল পূরুষ দল বেঁধে এক নারীকে ঘীরে মেতে উঠেছিলো উদ্দাম পাশবিকতায়। একে একে ছিড়ে খুঁড়ে খেতে চেয়েছিলো নারী দেহ। আমরা তথাকথিত ভদ্রলোকেরা যাকে বলি " লাঞ্ছিত "  করা। সংখ্যার বিচারে তা হয়তো শত ছড়ায়নি বা ছাড়িয়েছে। পরের কিছু দিন সবগুলো পত্রিকা শুধুই ঘেঁটেছি এর প্রতিক্রিয়ায় কি হলো তা জানতে। পুলিশ বলেছে ' যেহেতু তারা অভিযোগ পায়নি সেহেতু তারা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারেনি'। তারা শুনেছে এরকম কিছু একটা ঘটেছে, তবে তা তেমন গুরুতর কিছু ছিলো না! '। স্বীকার করি আর নাই করি;  পুলিশের হাত বাঁধা, চোখ বাঁধা । তারা অনেক সময় তারা দেখেও না দেখার ভান করে, শুনেও না শোনার ভান করে করে। অনেক কিছু করতে চাইলে করতে চাইলে করতে পারে না, অনেক সময় করবার গরজও দেখায় না। 



 ভেবেছিলাম প্রধানমন্ত্রি - স্বরাস্ট্র - পররারস্ট্র- কৃষি - সংসদ উপনেতা  যখন একজন নারী তখন কিছু একটা হবে, যেখানে অপরাধিদের রাজনৈতিক পরিচয় বের করা সম্ভব হয়েছিলো। তারা ছিলো তাদেররই বংশবদ ছাত্র লীগের কর্মী। কিছুই করা হয়নি এদের বিরুদ্ধে। একজনকেও পুলিশ গ্রেপ্তার করেনি। দলীয়ভাবে কোনো ব্যবস্থাই নেয়া হয়নি। যেনো আদৌ কিছু ঘটেনি ! সবকিছু বেমালুম চেপে যাওয়া হচ্ছে। নারীবাদিরাও চুপ। যেনো এ সবকিছুই খুবই স্বাভাবিক ঘটনা।

যে মেয়েগুলো " লাঞ্ছিত " হয়েছিলো তারা কোনোদিনই প্রকাশ্যে কিছু বলবে না। অভিযোগ করতে আসবে না পুলিশের কাছে। একবার "লাঞ্ছিত" হবার পর বার বার "লাঞ্ছিত" হতে তারা চায় না আদালতে । এ সমাজ সাহসী মেয়েদের "খারাপ" মেয়ে বলে। কোনো সাহসে তারা মুখ ফুটে প্রতিবাদ করেবে ? কার কাছে? যে সমাজের প্রত্যেক পুরুষের মাঝেই লুকিয়ে আছে একেকটি ধর্ষকামী পশু।
গত ফেব্রুয়ারী মাসেও এরকম এক ঘটনা ঘটেছিলো ময়মনসিংহের এক কনসার্টে। রিপোর্ট টির শীরোনাম ছিলো "আনন্দমোহন কলেজের উৎসবে দুঃসহ ঘটনা, সবাই নীরব" । এটাও যথারীতি চেপে যাওয়া হয়েছিলো যেনো খুবই সাধারন এক ব্যপার সেগুলো। আমরা এসব ঘটনা চেপে যেতেই ভালোবাসী।

একবার ভাবুনতো, যে মেয়েটি " লাঞ্ছিত " হলো সেই মেয়েটি আপনার বোন বা আমারই ছোট্ট বোন। এবার বাস্তবে ফীরে আসুন, নাহ কিছুই হয়নি বোনটির। ভালো আছে ও। কিন্তু যে মেয়েটি " লাঞ্ছিত " হলো সে মেয়েটিও কিন্তু কারো আদরের ছোট্ট বোন, কারো প্রেমিকা, কারো স্ত্রী , কারো মা , কারো সন্তান।

আমার বোনটা ভালোই আছে, আপনার বোনটি ভালো আছে তো?

শেষ করছি রবির লেখা পোস্টের শেষ অংশগুলো দিয়ে 

আপুমনিরা আপনাদেরকে একটা টিপস দিচ্ছি । এই ঘটনার ব্যাপারে ব্যবস্থা যে নেয়াই দরকার এটা কীভাবে আপনারা উপলব্ধি করবেন। কল্পনা করুন , পয়লা বৈশাখে একটি মেয়ে ক্যাম্পাসে এসেছে উৎসব উদযাপন করতে। হঠাৎ একদল ছেলে হাজার মানুষের সামনে তাকে নগ্ন করে ফেলল। মেয়েটির অসহায় চেহারার দিকে তাকান। দেখুন মেয়েটাকে আপনার নিজের মেয়ের মতো লাগছে কিনা ? আপারা একবার চোখ বন্ধ করে দেখার চেষ্টা করুন তো ! ক্লোজ ইয়োর আইজ , এন্ড ট্রাই টু সি।

রবির এ পোস্ট পড়বার পড়ই কিছু লেখার ইচ্ছে হলো। এজন্য এ লেখার কৃতিত্ব একান্তই রবির।

ছবি সত্বঃ প্রথম আলো


রবিবার, ২ মে, ২০১০

মে দিবসে আর কি বলতে পারি !

কোন মন্তব্য নেই :
ফেসবুকে কবি মুজিব মেহদী ভাইয়ের স্ট্যাটাস
"গৃহবধূদের কথা ভাবছি, যাঁদের কোনো শুক্র-শনি নেই। দিনরাত নেই। আরাম-বিরাম নেই। মে দিবস নেই। কোন মুখে মে দিনের শুভেচ্ছা বলি তাঁদের?"
এর পর আর কি কিছু বলার থাকে ?


অস্ট্রেলিয়ায় একেক স্টেটে একেকদিনে লেবার ডে পালন করা হয়। যেমন অস্ট্রেলিয়ান ক্যাপিটাল টেরিটরিতে ৮ই অক্টোবর লেবার ডে পালন করা হয়। এখানে মে দিবস হয়তো শ্রমিক সংগঠন গুলো পালন করে, তবে সরকারী ভাবে সেই ৮ ই অক্টোবর লেবার ডে।


দেশে মে দিবস আসলেই হ্যান করুংগা ত্যান করুংগা বলে অনেক গলাবাজী শোনা যায়। বোঝার বয়স হবার পর থেকেই এসব শুনে আসছি। বস্তুত যারা খেটে খায় তারা যেখানে ছিলো সেখানেই রয়ে যায়। নুন্যতম বেতন নিয়ে যতো কথা হয় তত কথা হয়না শ্রেনীভেদ ভাঙার জন্য। মালিক শ্রমিকের মাঝে আকাশ পাতাল ফারাক ঘুচবার কোনো লক্ষনই দেখা যায় না।

মাঝে মাঝেই দেখা যায় বেতন না দিয়ে গার্মেন্টস কারখানা বন্ধ করে দিয়েছে কোনো মালিক বা বেতন ভাতা নিয়ে ভাঙচুর - মারামারি। তৈড়ি পোষাক বিক্রি করে কোটি টাকা উপার্জন করা মালিক উৎপাদনে ষোলো আনা কিন্তু বেতন দেবার সময় হাজারো অজুহাত, আঙুল গলে কানা কড়িও গড়াতে চায় না। হাদিসে ঘাম শুকিয়ে যাবার আগেই মজুরি দেবার কথা বলা হয়েছে। আমরা ধর্ম চর্চায় যত টুকু মনোযোগী আমরা ঠিক ততটুকু পালনে রত হলে দেশতো স্বর্গ হয়ে যেতো। দেশে কাজ করবার সময় মাসের বেতন পেতে যতবার মালিকপক্ষকে অনুরোধ করতে হয়েছিলো ঠিক ততটুকু অনুরোধ খোদাকে করলে খোদাও মনে হয় বিরক্ত হয়ে উপর থেকে কিছু পাঠিয়ে দিতেন। বুদ্ধি বেচে খেতে গিয়েও কত বিড়ম্বনা, সেখানে মাথায় ঘাম পায়ে ফেলা শ্রমিকদের কথা ভাবতেই অন্যরকম কস্ট লাগে। বিদেশে এসে যখন দিনমজুরী করতাম তখন অনুভব করতে পেরেছি দেশে যারা দিনমজুরী করছে তাদের কস্টকে। কাজ আছেতো খাওয়া আছে, কাজ নেইতো খাওয়া নেই।

বিদেশে আসবার পর অনেক জায়গাতেই কাজ করেছি। সেটা ভারতীয় রেস্তোরায় তান্দুরী চিকেন বানানো থেকে শুরু করে সফটওয়্যার ফার্মে বুদ্ধি বেঁচা। রাতের পর রাত সুপার মার্কেট ধোয়া মোছাও বাদ যায়নি। তবে যেখানেই কাজ করেছি সেখানেই টাকা ছাড়াও "সম্মান" বলে পেয়েছি, সে সম্মান একজন মানুষ হিসেবে, কোনো কর্মচারী হিসেবে নয়। হয়তো টাকার বিচারে তার কাছে আমি একজন কর্মচারী কিন্তু দিনের শেষে একজন মানুষ। সেখানে আমার বর্ণ, ধর্ম , অর্থ কোনো কিছুই মুখ্য হিসেবে দাঁড়াই নি। এজন্যই হয়তো মাল্টি মাল্টি মিলিওনার বসের সাথে বসে একসাথে বিড়ি ফুঁকতে পারি বা শরীর এলিয়ে কফির মগ হাতে উচ্চ স্বরে হেসে নাম ধরে ঢেকে কথা বলতে পারি।

এক বিংশ শতাব্দীর এই সময়ে এসেও যত ভদ্র আচরনই করি না কেনো, যতো সুশীল কথাই বলি না কেনো দিনের শেষে আমাদের মননটাই আসল।

মে দিবসে একটাই কামনা, অন্তত সম্মান যাতে করে সবাই তাদের শ্রমিকদের। একজন মানুষ হিসেবে আরেকজন মানুষকে যেই সম্মান করে সেই সম্মানটকুই। এত টুকই চাওয়া আমার এই দিনটায়।

সোমবার, ২৬ এপ্রিল, ২০১০

ক্যানবেরার খেরোখাতা স্পেশাল " ওহ ববিতা"

২টি মন্তব্য :
পুরানা প্রেম উথলিয়ে উঠলো। সব দোষ মাসুম ভাইয়ের।
মাসুম ভাইয়ের এই লেখা না পড়লে হয়তো ভুলেই থাকতাম।
ওহ মাই ববিতা।

ইউটিউবে ববিতার সে সময়ের গান একটানা শুনেই যাচ্ছি। এ মুহুর্তে শুনছি

মন দেবো কি দেবো না বার বার শুনছি। আজ মনে হয় ববিতায় ঢুবে থাকবো।

ঝিমাইন্না দিন কাল যাচ্ছে। সব সময়ই কেনো জানি এমনটি হয়। জন্ম মাসে এপ্রিল কোনো জানি সমব সময়ই ধীর লয়ে চলে। কাজের চাপ কম থাকে, হয়তো পরের তুমুল ব্যস্ত মাসগুলোর জন্য প্রস্তুতি। শুয়ে বসে খেতে খেতে ওজন বেড়ে যায় বড্ড।

একটা মাইল স্টোন স্পর্শ করলাম। অস্ট্রেলিয়ায় রক্তদানে ডজন পূরন করলাম। দেশ - বিদেশ মিলিয়ে ৩৬ বার হলো। কোনো এক বৈশাখের গন গনে দূপুরে ধানমন্ডীর আবাহনি মাঠে শুরু, ১৪ এপ্রিলে ক্যানবেরা সেন্টারে ৩৬ তম। কত বিচিত্র কত সুখকর সব স্মৃতি এই রক্তদান নিয়ে। ডেংগি ফিভারের রোগী এক পরমা সুন্দরী তরুনী, ওপেন হার্ট সার্জারীর কুমিল্লার গৌরাঙ্গ স্যার, টিকাটুলীর পানির ট্যাংকের পাশে ঝাপড়া ঘরে বাস করা সেই সাহসী বীর প্রতিক মুক্তিযোদ্ধা। আর কার কার ধমনীতে আমার রক্ত প্রবাহিত হয়েছে জানিই না। পাশের বাসার লিউকেমিয়ায় ভোগা সেই ছোট্ট ছেলেটির মুখ ভসে উঠছে। যে দিন রক্ত দেবার কথা ছিলো সেদিনই মারা গেলো সেই ফুটফুটে ছেলেটি। কস্ট লাগছে মনে পড়ে।

নিজ জন্মদিনে কিছুই করা হলো না, আসলে কখনোই কিছু করা হয় না। তবুও খুবই ভালো লেগেছিলো বউ যখন পোলাও - ঝাল মুরগীর মাংস রেঁধেছিলো, সাথে ঘরে বানানো কেক। আই লাব ইউ মাই ডিয়ারেস্ট লক্ষি বউ ( বাংলিশ করলাম ইচ্ছে করেই ) । কেনো জানি মাঝে মাঝে অর্থ সংকটে পরে যাই, ২২ এপ্রিল জন্মদিনেও এমনটি হয়েছিলো। মাঝে মাঝে এরকম সমস্যায় পড়া উচিৎ। জীবনকে আর ভালোভাবে অনুভব করা যায়।

অনেকগুলো এসএমএস পেয়েছি জন্মদিনে। ফেইসবুকেও অনেক শুভকামনা। সবার ভালোবাসার প্রতিদান এ জনমে কিভাবে দেবো ?

শুক্রবার, ১৬ এপ্রিল, ২০১০

অভিনন্দন শুভ ভাই, শ্রেষ্ঠ বাংলা ব্লগ পুরস্কার পাবার জন্য

২টি মন্তব্য :
THE BOBs
অবশেষে বেস্ট অফ ব্লগস বা সেরা ব্লগ প্রতিযোগিতার চূড়ান্ত বিজয়ীদের নাম ঘোষণা করলো ডয়চে ভেলে৷ যাতে ইংরেজি ব্লগ 'উশাহিদি' জিতে নিলো শ্রেষ্ঠ ওয়েব্লগ-এর পুরস্কার৷ আর আলী মাহমেদ-এর ব্লগ উঠে এলো শ্রেষ্ঠ বাংলা ব্লগ হিসেবে৷

ডয়েচে ভেলে যখন বেস্ট অফ ব্লগস বা সেরা ব্লগ প্রতিযোগিতা শুরু করে তখন খুব একটা আগ্রহ দেখাইনি। কিন্তু নিজের ব্লগ যখন সেরা এগারোতে স্থান পেলো তখন আগ্রহ জন্মেছিলো অবশ্যই। এ পৃথিবীতে সবাই চায় সেরা এগারোতে স্থান পেতে , সেরা হতে; আমিইবা ব্যতিক্রম হবো কেনো?

ভোটাভুটি শুরু হওয়ার পর দুটো ভোট দিয়েছিলাম। প্রথমটি নিজেকে ( সবকিছু ছাপিয়ে মানুষ নিজেকেই সব চাইতে বেশী ভালোবাসে) , পরের ভোটটি শুভ ভাইকে। দেখতে দেখতে শুভ ভাই সবাইকে ছাড়িয়ে শীর্ষে চলে গেলেন। একসময়  শ্রেষ্ঠ বাংলা ব্লগ হিসেবে জিতে নিলেন দুটো পুরস্কার। জুরিদের শ্রেষ্ঠ বাংলা ব্লগ ও ব্যবহারকারীদের ভোটে শ্রেষ্ঠ বাংলা ব্লগ ।

অভিনন্দন শুভ ভাই। দূর্মুখে মুখে ঝাঁটার বাড়ি দিয়ে আপনি ডয়চে ভেলের  শ্রেষ্ঠ বাংলা ব্লগ। সকলের ভালোবাসা ও অবশ্যই আপনার কৃতিত্বে এ জয়। হিংসুকরা হিংসার আগুনে জ্বলে পড়ুক।

রবিবার, ২১ মার্চ, ২০১০

মেয়ে তোমার বয়স কত

কোন মন্তব্য নেই :
জিনিসটা সবার জানে। বাংলাদেশে সবার দুই টা জন্ম বছর থাকে। একটা সার্টিফিকেটে লেখা থাকে, আরেকটা আসল। জন্মদিনও একাধিক থাকতে পারে, যেমন বাংলাদেশের প্রাক্তন প্রধানমন্ত্রি খালেদা জিয়া। উনার ৩ টা জন্মদিন !! যাই হোক আজকের আলোচ্য বিষয় এইটা না।

ছেলেদের জন্মবছর পরিবর্তন করা হয় ভবিষ্যতের (?) দিকে লক্ষ্য রেখে,যাতে কম বয়সে চাকুরিতে ঢুকতে পারে ও বেশী বছর ধরে সেইটা চালায় নিতে পারে। মেয়েদেটা করা হয় বিয়ের বয়সকে লক্ষ্য করে, যাতে বয়স বাড়লেও সংখ্যা না বাড়ে ( পাবলিক কবে মানুষ হবে ?) । এ বিষয়ে পিতা-মাতার সাথে শিক্ষকরাও সরেস ভূমিকা রাখেন।

এক সাথে পড়াশোনা করার সময় দেখতাম সহপাঠীনির বয়সই আমার বা আমাদের চাইতে ২/৩ বছর কম যেনো উনারা ২ বছর বয়সেই ইস্কুলে ভর্তি হয়েছিলেন !

আমার বাবা এক সময় পুলিশ একাডেমীতে মাস্টারী করতেন। সেটা কোন বছর সেটা মনে নেই। ২১ কি ২২ তম বিসিএস এর প্রবেশনারী এএসপিদের পাসিং আউটের স্যুভিনিরে সবার পরিচিতি দেখে বড্ড মজা লেগেছিলো। ছেলেদের বয়স যেখানে ৩৪-৩৫ এর কোঠায় সেখানে তাদেরই ব্যাচমেট সব মেয়ের বয়স ৩০ পেরুয়নি ! কারো কারো ত আরো কম !!!

এই পোস্টের শানে নজুলঃ
আজকে ফেইসবুকে একজনের ৩০ তম জন্মদিন দেখে হঠাৎই মনে হলো একটা কিছু লিখি। আগামী কাল ১ বছর জুনিয়র সেই মেয়ে ৩০ এ পা দিচ্ছে ( অবশ্য শুভ জন্মদিন জানাই ও নিরন্তর শুভকামনা সেই সুন্দর মানুষটিকে) সেখানে তার সহপাঠীদের বয়স ৩০ পেরিয়ে মধ্য ৩০ এর দিকে হামাগুড়ি দিচ্ছে।

শনিবার, ২০ মার্চ, ২০১০

কত টাকা হলে তাকে ক্রয় করা যাবে ?

কোন মন্তব্য নেই :
কত টাকা হলে তাকে ক্রয় করা যাবে ?
ঘটনার সূত্রপাত হাসান মোর্শেদের পোস্টের মাধ্যমে । পাল্টা পোস্ট হিসেবে ফকির ইলিয়াস তার দালালী ও সুবিধাবাদি চরিত্রের প্রকাশ আবার দেখালেন। এর পর আবারো একটি পোস্ট হিমুর পোস্টের শিরোনাম "সাহিত্যবেশ্যা আর তাদের দালালেরা" । আজ পান্থর আরেকটি পোস্ট।

সবগুলো পোস্টেরই মূল আলোচ্য বিষয় , আমাদের দেশখ্যাত লেখক বা কবি যাদের আমরা মুক্তমনা, মুক্তিযুদ্ধের চেতনাধারী ও পক্ষের মনে করি তাদের "নয়া দিগন্তের" মতো পত্রিকা যা পরিস্কার ভাবেএকটি জামাতি পত্রিকা, সেখানে নিয়মিত লেখা দেয়া।

কে কোথায় লিখবেন সেটা লেখকের স্বাধীনতা কিন্তু কোথায় লিখছেন সেটা কি তারা একবারো দেখবেন না !! নাকি দেখেও না দেখার ভান করবেন ? ভাবছি ঠিক কত দাম হলে এরা বিক্রি হোন !

এরা টাকার জন্য নয়া দিগন্তের মতো জামাতি পত্রিকায় লিখছেন, এরা টাকার জন্য কালের কন্ঠের মতো অসৎ টাকায় গড়া পত্রিকায় লিখছেন। আবার এরাই জামাতের বিরুদ্ধে অন্য পত্রিকায় কলম ফাটাচ্ছেন, এরাই ভূমি দস্যুতা ও দূর্নীতির বিরুদ্ধে গলা ফাটাচ্ছেন।
ভন্ডামীর একটা সীমা আছে।

বুধবার, ১৭ মার্চ, ২০১০

টানা পোড়ন

কোন মন্তব্য নেই :
বিদেশে দেশী ভাইদের আড্ডায় এহেন কোনো বিষয় নেই যা নিয়ে আলোচনা হয় না। বাড়ীর ছাদের টালি কিভাবে সস্তায় ঠিক করতে হয় সেটা থেকে শুরু করে অস্ট্রেলিয়ার প্রধানমন্ত্রি কেভিন রাডের মাথার চুল কেনো দিনকে দিন সাদা হয়ে যাচ্ছে জাতীয় কথা আলোচনায় চলে আসে। তবে দিনের শেষে আড্ডায় " "রাজনীতি" নিয়ে কথা আসবেই আসবে এবং তা বাংলাদেশের রাজনীতি। কথায় কথায় দেখা যাবে কেউবা আম্লীগ, কেউ বা বিম্পি। মাঝ খান থেকে 'কি দরকার বিভেদের রাজনীতি করবার ! আসুন সবাই অতীত ভুলে মিল মিশে দেশ গড়বার ঈমানী দ্বায়িত্ব পালন করি' জাতীয় ছুপা জামাতির বয়ানও শোনা যায়। ব্যক্তিগত ভাবে রাজনীতি চরম পছন্দের বিষয় হলেও বাংলাদেশের রাজনীতি নিয়ে ভাব্বার রুচি , সময় বা আগ্রহ কোনোটাই আমার এখন আর হয় না।

সেদিন এরকম এক আড্ডায় বসেছিলাম। বরাবরের মতো আজকাল শ্রোতার চাইতে বক্তার সংখ্যাই বেশী। সেদিনও সেটার ব্যতিক্রম ঘটেনি। সবাই যে যার মতো বলে যাচ্ছে। কে শুনছে আর কে শুনছে না সেটা নিয়ে বোধোহয় কারো তেমন মাধা ব্যথা ছিলো না। চরম বিরক্তি নিয়ে সবকিছু শুনতে হচ্ছিলো। আড্ডায় বসে বিরিয়ানী রাঁধার সুঘ্রান পাচ্ছিলাম, নচেৎ আড্ডা থেকে উঠেই আসতাম।

আড্ডায় আমরা যারা ছিলাম তাদের বেশীর ভাগই পড়াশোনা করতে এসে এদেশে থেকে যাওয়া, কিছু দেশ থেকে স্থায়ী অভিবাসন নিয়ে আসা। দু একজন ছিলেন যারা এখনো পড়ছেন, তারা এখনো বুঝে উঠতে পারছেন না কি করবেন; থাকবেন - না দেশে ফেরৎ যাবেন।

দেশে থাকার পরিবেশ নাই, দেশ আমাকে কি দিয়েছে, দেশে ভালো বেতন পাওয়া যায় না, দূর্নীতি পদে পদে, কথায় কথায় হরতাল, জীবনের নিরাপত্তা নাই, রাস্তায় জ্যাম, ইলেকট্রিক তার থেকে কখন কাকের ইয়ে এসে পরে, বাতাসে ধোঁয়া, হাজার হাজার মানুষ ইত্যাদি ইত্যাদি অনেক অভিযোগের ফুলঝুড়ি। এসব অভিযোগের বাস্তবতা আছে। তবে বিদেশে নিরাপদ পরিবেশে থাকতে থাকতে আমরা এই মানুষগুলো কেমন যেনো চিড়িয়াখানায় লালিত পালিত বাঘের মতো হয়ে গিয়েছি, যে বাঘটি বুনো পরিবেশে বাস্তব জীবনে নিজ হাতে শিকার করে খেতে অক্ষম। দেশের কঠিন বাস্তবতা থেকে দূরে সরে থাকতে বিদেশের তথাকথিত নিরাপদ পরিবেশই আমাদের কাছে বেশী আবেদন রাখে।

দিন রাত যন্ত্রের মতো কাজ করে, ক্ষুদ্র গন্ডীবদ্ধ সামাজিক পরিবেশে বাস করে, বাড়ীর মর্টগেজ - কার লোন - ক্রেডিট কার্ডের লোন- বিচিত্র রকম বিল শোধ করে রাতে ঘুমুতে যাবার আগে হয়তো কি পেলাম বা কি পেয়েছি জাতীয় কথা অনেকের মাথায় হয়তো চলে আসে, তবে পরের দিন আবারো সেই জীবনের লুপে পরে সেসব গল্প হয়ে যায়।

একটা লাল -নীল পাসপোর্টে বিদেশে দ্বিতীয় শ্রেণীর নাগরিক হয়ে, চকচকে ঝকঝকে শপিং মলে বাজার সদাই করে , সন্তানদের তুলনামূলক ভাবে ভালো স্কুলে পড়াশোনার ব্যবস্থা করে দেয়া , ভালো চিকিৎসা ব্যবস্থা পাওয়া ইত্যাদি ইত্যাদি কারনে দেশের প্রতি টান এক সময় ফীকে হয়ে আসে, কিন্তু মমতা রয়ে যায়, রয়ে যায় ভালোবাসা। এই ভালোবাসা মমতার টানেই হয়তো বছর ঘুরে আমরা দেশে বেড়াতে যাই। সাথে নিয়ে যাই কে মার্ট - বিগডাব্লু বা চাইনিজ দোকান থেকে সস্তা কিছু গিফট। এই মমতা থেকেই দেশে পিতা মাতার কাছে টাকা পাঠাই। কিন্তু দেশে ফেরত যাবার কথা ভাবী না। দেশ কি দিয়েছে তা নিয়ে প্রশ্ন তুলি কিন্তু দেশকে আমি কি দিয়েছি সে প্রশ্ন সযতনে এড়িয়ে যাই। দেশে টাকা পাঠিয়ে তৃপ্তির ঢেঁকুর তুলি কিন্তু দেশে বিনিয়োগ করবার সাহস দেখাই না। দেশে ফেরত না গিয়ে দেশ উদ্ধার করি বিদেশের আরামের ড্রইং রুমের আড্ডা খানায়।

লক্ষ্য করে দেখেছি এই সব পাশ কাটানো সব কাজগুলোই করেন উন্নত দেশগুলোতে অভিবাস নেয়া উচ্চ শিক্ষিত মানুষগুলো। অপেক্ষাকৃত কম শিক্ষিত বা স্থায়ী ভাবে থেকে যাওয়ার সুযোগ নেই এরকম মানুষগুলো যখন দেশে ফেরৎ যান , তখন কিছু না কিছু করার চেস্টা করেন বিদেশ হতে হাড়ভাঙা কস্টের উপার্জন দিয়ে কিছু করবার। কেউ ছোট্ট দোকান দেন, কেউবা ছোট্ট কারখানা খুলে কিছু করবার চেস্টা করেন। আর আমরা যারা পড়াশোনা শিখে নিজেদের অভিজাত ভাবছি তারা বড়জোর দেশে একটা দামী এপার্টম্যান্ট কিনি ! দেশে রেমিট্যান্স এর বেশীর ভাগ এসে মধ্যপ্রাচ্য থেকে, তথাকথিত উন্নত দেশে বাস করা তথাকথিত উচ্চ শিক্ষিত মানুষগুলোর কাছ থেকে নয়।

দেশ থেকে তো অনেক কিছু পেয়েছি, দেশকে আমি কি দিলাম ?

Amazon Kindle Black Leather Cover w/ strap (Fits 6" Display, Latest Generation Kindle) Need You Now

সুজাতা তুমি কি সেই আগের মতোই আছো ?

কোন মন্তব্য নেই :
সব কিছুই সেই আগের মতোই
সেই বাঁকা হাসি
কথায় কথায় ভুঁরু কুচকানী
সুজাতা সেই আগের মতোই আছে।।
কেমন আছো ?

দু ছেলে এক মেয়ে নিয়ে ভালোই আছি
তোমার উনি ?
উনিও ভালো , ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত
হড়বড়িয়ে কথা বলার স্বভাব সুজাতা ছাড়তে পারেনি
সুজাতা সেই আগের মতোই আছে।।
তুমি কেমন আছো ?
আমিও ভালো আছি
সুখে আছি
তোমার উনি ?
উনিও ভালো , ছেলে মেয়েরাও ভালো।
বাহ ! সুখী সংসার
আসলেই সুখী।
কতদিন থাকছো দেশে ?
দেখি।
সুজাতা সেই আগের মতোই আছে।।
প্রশ্ন করার অভ্যেসটা বদলাতে পারেনি।
তোমার ফোন নাম্বারটা দেয়া যাবে ?
কেনো, কদিনইবা থাকবো দেশে ! নাম্বার নেয়া হয়নি।
তোমারটা ?
সেই আগেরটাই আছে।
০১৭ এর পর ১ যোগ হয়েছে এর পর আবারো ১ যোগ হয়েছে
তোমার মনে আছে ?
থাকবেনা কেনো !
সুজাতা সেই আগের মতোই আছে।।
প্রশ্ন করার অভ্যেসটা বদলাতে পারেনি।
৩৬-২৭-৩৫ এখন ৪৬ -৩৫-৪২
সুজাতা সেই আগের মতো নেই।।
চুলে পাক ধরেছে, মুখে বলি রেখা, দাঁতে পান খাবার দাগ
সুজাতা সেই আগের মতো নেই।।
সুজাতা তুমি কি সেই আগের মতোই আছো ?

সোমবার, ৮ মার্চ, ২০১০

হাবিজাবি ৭

৩টি মন্তব্য :
লেখালেখি করতে ভালো লাগে না, এই জন্য লিখি না। রাইটার্স ব্লক টক সব ফালতু বাত । সকালে আন্তর্জালে দেশী পত্রিকা পড়ি অভ্যাস মতো, সন্ধ্যেবেলায় বিশ্বখবরটিও দেখা হয় নিজেকে আপ টু ডেইট রাখার জন্য। এমনিতেই বয়স বেড়ে যাচ্ছে, খবর টবর না রাখলে শেষ মেশ দেখা যাবে আউট ডেইটেড ( যাকে বাংলায় বাতিল মাল বল্লে মন্দ হয় না ) হয়ে যাবার বিশাল সম্ভাবনা দেখা দেবে। যাই হোক, দিন কাল রোলার কোস্টারের মতো যাচ্ছে। এই ভালোতো সেই খারাপ । আজ হয়তো সময় খারাপ যাচ্ছে কালই দেখা যাবে ভালো সময়ের ছড়াছড়ি। আল্লাহ ভরসা।

একসময় কাজ খোঁজার জন্য হন্যে হয়ে ঘুড়তাম। সেই আমি এখন কাজ হতে বাঁচার রাস্তা খুঁজি। নিজেকে যন্ত্রের মতো মনে হচ্ছে। আর ভাল্লাগে না এই ছাতার জীবন। সব ছেড়ে ছুড়ে দেশেই চলে যাবো।

এমনিতে অন্য সব ভালোই আছে। ছেলের বয়স ১৭ মাস। উনার বকবকানীতে টেকা দায়। ছোট্ট বাসায় উনার দৌড়াদুড়ি দেখে মনে হয় উনি অলিম্পিকে নামার প্রস্তুতি নিচ্ছেন ! আমার লক্ষী বউটিও ভালো আছে। উনার ফেসবুকে আসক্তি চোখে পড়বার মতো। দন্তরোগারী আপাত শিকেয় তুলে রাখা।

গত শনিবার এক বিয়েতে যাওয়া হয়েছিলো। জীবনে প্রথম বারের মতো চার্চে গমন, জীবনে প্রথম বারের মতো পশ্চিমা বিয়ে দেখা, জীবনে প্রথম বারের মতো পশ্চিমা বিয়ে রিসিপশনে যেয়ে জীবনে অনেক বারের মতোই "ঝঘন্য" সব খাবার খাবার গলাধরকন !! এটা নিয়ে না হয় অন্য একদিন লেখা যাবে। আজ নাহ।

ঘুমাইতে যাই। কাল সকাল সকাল উঠতে হবে। অনেক কাজ, অনেক টেনশন, জীবনের মোড় ঘুড়ানোর আরেকটি মাইলস্টোন কি হবে সেটা ? আল্লাহ ভরসা। ইনশালল্লাহ সব ঠিক হয়ে যাবে। মায়ের দোয়া, পিতার আশির্বাদ আছে না ! ঠেকায় কে ?

আমাজনে বই বিক্রি করার দালালী নিয়েছি । আল্লাহর ওয়াস্তে নিচের ইমেজে ক্লিক করে অশেষ নেকী হাসিল করুন আর এই অধমের পকেটে কিছু নগদায়ন ঘটুক।

The Twilight Saga: New Moon (Two-Disc Special Edition) Kindle Wireless Reading Device (6" Display, Global Wireless, Latest Generation)The Help

শনিবার, ৬ ফেব্রুয়ারী, ২০১০

একটি নাটকের স্ক্রিপ্ট

কোন মন্তব্য নেই :


আবু বকরের সিদ্দীকের জনক জননীকে শেখ হাসিনার সামনে আনা হবে। শেখ হাসিনা সন্তান হারা জননীকে জড়িয়ে সান্তনা জানাবেন, হাতে লাখ টাকার চেক তুলে দেবেন। সাংবাদিকরা সেটা পরের দিনের পত্রিকার জন্য তুলে রাখবেন কিছু ছবি। বিভিন্ন চ্যানেলে সেই খবর গূরুত্ব সহকারে দেখানো হবে। প্রধান মন্ত্রি শেখ হাসিনা বরাবরের মতো গালভরা কিছু বুলি ছাড়বেন। সবকিছু শেষ হয়ে যাবার পর সন্তান হারা জননীর খবর কেউ রাখবে না। ডিসির গাড়ীতে টাঙাইল হতে আসা সেই মানুষটি হয়তো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে লোকাল বাসে চড়ে বাড়ী ফিরে যাবেন। সময়ে সবাই ভুলে যাবে তার কথা। ব্যস্ত হয়ে পড়বে নতুন কিছু নিয়ে।
বকররা মারা যায়, জয় বা তারেকরা মারা যায় না। গেলে শেখ হাসিনা বা খালেদা জিয়া বুঝতে পারতো সন্তানহারা মায়ের কতো কস্ট।
নাটকের এ স্কৃপ্ট অনেকবারই ব্যবহৃত হয়েছে, ভবিষ্যতেও হবে। নাটকের সেট ববাবরের মতোই একই, ঝকঝকে প্রধান মন্ত্রি অফিসকক্ষ। শুধু অভিনেতা - অভিনেত্রী বদল হয়, কিন্তু দর্শক বদলে যায় না।

রবিবার, ১৭ জানুয়ারী, ২০১০

বুদ্ধিজীবিয় বেশ্যাবৃত্তি আর কত দেখবো ?

1 টি মন্তব্য :
বুদ্ধিজীবিদের সংক্ষেপে "বুজী" বলে ডাকলে মুল্যবান সময় ও ক্যালরি দুটোই বাঁচে। । ইনারা বিভিন্ন পত্রিকায় কলাম লিখেন, উপসম্পাদকীয় লিখে পত্রিকার পাতায় পাতায় বুদ্ধির নহর বইয়ে দেন। এহেন কোনো বিষয় নেই যা নিয়ে উনারা লিখতে পছন্দ করেন না। আদার ব্যপারি অর্থনৈতিক চুক্তি নিয়ে লেখেন, এক কালের কুখ্যাত দূর্নীতিবাজ আমলা লেখেন সুশাষন নিয়ে, রাজনীতি করা কুখ্যাত ব্যক্তিও বাদ যাবেন কেনো ? উনিও লেখেন গনতন্ত্র ও  মানবাধিকার নিয়ে ! আমরা গিলতে বাধ্য হই।

এক সময় জানতাম অমুক লেখক তমুক ঘরানার, ওখান ছাড়া লেখনই না। কেউবা আওয়ামী ঘরানার, কেউবা বাম ঘরানার, কেউবা জামাত ঘেঁষা কলামিস্ট। যাই হোক, মেঘনায় অনেক পানি গড়িয়েছে, ভৈরবের আড়তে অনেক শুটকি বিক্রিও হয়েছে। কালের বিবর্তনে সেই ধারনাও বদলেছে। এখন একজন অনেক জায়গায় লিখছেন। আজ প্রথম আলোতে তো কাল ভোরের কাগজে, পরশু যুগান্তরে তো তরশু হালের  "কালের কন্ঠে"। সুযোগে নয়া দিগন্তের মতো রাজাকারী পত্রিকাও বাদ যায় না । সে উনারা লিখতেই পারেন। কে কোথায় লিখবেন সেটা ধরিয়া দেবার আমি কে ! লিখে দুটা টাকা পান, পত্রিকার পাতায় নিজের নাম ছাপা হয়। উনাদের পেটে লাথি মারার চিন্তা করাই বেসম্ভব ব্যপার।

বেশ কদিন হলো মহা ধুমধাম করে "কালের কন্ঠ", তাদের শ্লোগান ' আংশিক নয় পুরো সত্য'।  সত্য জিনিসটাকেই এরা খেলো করে ফেলছে কিনা সেটা পরে আসবে, হয়তো অন্য লেখায়। বিখ‌্যাত - কুখ্যাত  সব "বুজী" সেখানে লেখা দিয়ে কালের কন্ঠকে ধন্য করেছেন।  এক সময় রাজাকার মওলানা আবদুল মান্নানের ইনকিলাবকে লেখা দিয়ে ধন্য করেছিলেন হুমায়ুন আহমেদ , এখন দিয়েছেন খুনী -দর্নীতির হোতা- ভূমিদস্যু শাহ আলমের কালের কন্ঠকে। উনার মতো আরো অনেক রথি - মহারথিরাই সেখানে লিখছেন, এখানে তাদের কিছু তালিকা পাওয়া যাবে কালের কন্ঠ বনাম মুড়ির ঘন্ট (আলী মাহমেদ)

বেশ্যা যেমন টাকার বিনিময়ে দেহ বিক্রি করে তেমন এই সব বুদ্ধিজীবি টাকার কাছে লেখা বিক্রি করছেন। বিবেক এখানে বিবেচ্য নয়। বিক্রয় যোগ্য পণ‌্যের মতো এরা প্রতিনিয়ত বিক্রি হচ্ছেন। প্রয়োজন বোধ করছেন না দেখার কোথায় - কার কাছে বিক্রি হচ্ছেন। বেশ্যাও একটা নীতি মেনে চলে, এই সব 'বুজীর' সেই নীতিবোধও নাই। এরাই হয়তো অন্য পত্রিকার কলাম ভড়বেন দূর্নীতির বিরুদ্ধে, ভূমি দস্যুতার বিরুদ্ধে , দূর্নীতির বিরুদ্ধে, খুনের বিচার নিয়ে গরম গরম বুলি কপচিয়ে। এরাই নাকি আমাদের জাতির বিবেক হিসেবে গণ্য !!! ???

ধিক এই সব বুদ্ধিবৃত্তিক বেশ্যার প্রতি। রাজাকার কাশেমের নয়া দিগন্তে লিখলে যদি রাজাকার- হিডেনে জামাতি হতে হয় তবে খুনী- দূর্নীতির দোসর- ভূমি দস্যু- চিহ্নিত অপরাধী শাহ আলমের কালের কন্ঠে বা বাবুলের মতো চিহ্নিত ভূমিদস্যুর যুগান্তরে লিখলে তাদের কি বলা যাবে ??
মন্তব্য কাম্য।